ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
ফেঞ্চুগঞ্জে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির সভা, উপস্থিত এমপি এম এ মালিক ‘দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে নেতাকর্মীদের ঝুঁকিতে ফেলবেন না’ হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দী অর্ধলক্ষাধিক মানুষ টানা ভারি বর্ষণে হবিগঞ্জে নতুন করে প্লাবিত আরও ১২ গ্রাম হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বিভিন্ন ফাটল পরিদর্শনে হুইপ জিকে গউছ রংপুর জেলা পরিষদ প্রশাসকের বিরুদ্ধে নিজ উপজেলায় অধিকাংশ প্রকল্প বরাদ্দের অভিযোগ সৌদি আরবে বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু বার্মিংহামে তীব্র তাপপ্রবাহে পথচারীদের মাঝে ঠান্ডা পানি বিতরণ করলেন সাবেক কাউন্সিলর প্রার্থী ওবায়দুল কবীর সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন মৌলভীবাজারে ধলাই নদীর ভাঙন: পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দী অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

নিজস্ব সংবাদ :

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দী অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের অন্তত ২২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ১১ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন।

বন্যার পানিতে বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘর ছাড়ছেন অনেক মানুষ। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের সংকট দেখা দিয়েছে।

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর দুটি স্থানে পানি প্রবেশ করায় সদর, বানিয়াচং ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে এবং রাধাপুর এলাকায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। এতে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, কালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। পানি বৃদ্ধির কারণে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, খোয়াই নদীর দুটি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়ারল্যাস অপারেটর মো. নুর উদ্দিন বলেন, জেলার তিনটি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজারেও মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙনকবলিত অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

বন্যা পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরফ মিয়া শুক্রবার বিকেলে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও তিনি ঘরে থেকে যান।

মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত চারটি উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
১৯ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা, পানিবন্দী অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

আপডেট সময় ০৬:১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের অন্তত ২২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ১১ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন।

বন্যার পানিতে বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘর ছাড়ছেন অনেক মানুষ। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের সংকট দেখা দিয়েছে।

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর দুটি স্থানে পানি প্রবেশ করায় সদর, বানিয়াচং ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে এবং রাধাপুর এলাকায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। এতে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, কালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। পানি বৃদ্ধির কারণে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, খোয়াই নদীর দুটি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়ারল্যাস অপারেটর মো. নুর উদ্দিন বলেন, জেলার তিনটি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজারেও মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙনকবলিত অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

বন্যা পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরফ মিয়া শুক্রবার বিকেলে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও তিনি ঘরে থেকে যান।

মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত চারটি উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাবে।