ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে ধলাই নদীর ভাঙন: পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

নিজস্ব সংবাদ :

অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আশা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর, আলীনগর, পতনউষার ও আদমপুর ইউনিয়নে বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ। বন্যায় তলিয়ে গেছে আউশ, আমন ও সবজি ফসলের মাঠ।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বুধবার রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকা দিয়ে ধলাই নদীর এই ভাঙন দেখা দেয়। এছাড়া জসিম ব্রিকসের ফিশারির জন্য বাঁধ কেটে নিচু করার কারণে অধিক বন্যাক্রান্ত হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর, আলীনগর, পতনউষার ও আদমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। বিশেষ করে মোকাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গংগানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায় বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল, ঘোরামারা গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক ও বিদ্যালয়। বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ধলাই নদীর মোখাবিলের এই অংশ অনেক আগে থেকেই ভাঙা। বিএসএফের বাধার কারণে বাঁধ নির্মাণ করা যায়নি। তারা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকমতো কাজ করলে আজ এত ক্ষতি হতো না। বন্যায় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে।

আউশ ধান ও বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। জহির মিয়াসহ অনেকে বলেন, ঘরের মধ্যে তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট পানি ওঠায় দুই দিন ধরে উপোস রয়েছেন। প্রশাসন কোনো খোঁজ নেয়নি। তবে তিনি জানান, স্থানীয় বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া, জাকির হোসেন বলেন, গতকাল রাত ১০টায় হঠাৎ করে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। প্রায় ১০০ মিটার হবে ভেঙেছে। কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষেরা কষ্টে আছে।

এদিকে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে মনু ও ধলাই নদীর পানি প্রবাহীত হচ্ছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ধলাই ও মনু নদীর ১০টি স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। তিনি বলেন, বিএসএফের বাধায় মখাবিলের এই অংশটুকু কাজ করানো সম্ভব হয়নি। বাধার মুখে যেটুকু কাজ করা গেছে তাই করা হয়েছে।

কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে আমরা শুকনো খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া যতটুকু সম্ভব উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যার্থদের পাশে দাঁড়ানো হবে এবং যেসমস্ত রাস্তা ভেঙে গেছে, সেগুলো মেরামতের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৯:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
৫৯ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারে ধলাই নদীর ভাঙন: পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় ০৯:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আশা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর, আলীনগর, পতনউষার ও আদমপুর ইউনিয়নে বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ। বন্যায় তলিয়ে গেছে আউশ, আমন ও সবজি ফসলের মাঠ।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বুধবার রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকা দিয়ে ধলাই নদীর এই ভাঙন দেখা দেয়। এছাড়া জসিম ব্রিকসের ফিশারির জন্য বাঁধ কেটে নিচু করার কারণে অধিক বন্যাক্রান্ত হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর, আলীনগর, পতনউষার ও আদমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। বিশেষ করে মোকাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গংগানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায় বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল, ঘোরামারা গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক ও বিদ্যালয়। বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ধলাই নদীর মোখাবিলের এই অংশ অনেক আগে থেকেই ভাঙা। বিএসএফের বাধার কারণে বাঁধ নির্মাণ করা যায়নি। তারা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকমতো কাজ করলে আজ এত ক্ষতি হতো না। বন্যায় মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে।

আউশ ধান ও বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। জহির মিয়াসহ অনেকে বলেন, ঘরের মধ্যে তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট পানি ওঠায় দুই দিন ধরে উপোস রয়েছেন। প্রশাসন কোনো খোঁজ নেয়নি। তবে তিনি জানান, স্থানীয় বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া, জাকির হোসেন বলেন, গতকাল রাত ১০টায় হঠাৎ করে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। প্রায় ১০০ মিটার হবে ভেঙেছে। কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষেরা কষ্টে আছে।

এদিকে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে মনু ও ধলাই নদীর পানি প্রবাহীত হচ্ছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া ধলাই ও মনু নদীর ১০টি স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। তিনি বলেন, বিএসএফের বাধায় মখাবিলের এই অংশটুকু কাজ করানো সম্ভব হয়নি। বাধার মুখে যেটুকু কাজ করা গেছে তাই করা হয়েছে।

কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে আমরা শুকনো খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া যতটুকু সম্ভব উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যার্থদের পাশে দাঁড়ানো হবে এবং যেসমস্ত রাস্তা ভেঙে গেছে, সেগুলো মেরামতের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।