ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নকআউটে রোনালদোদের প্রতিপক্ষ কারা ! আজমিরীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবন, শঙ্কায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা ৫ দিনের সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান দীর্ঘ সংসারের ইতি টানলেন আলোচিত চিকিৎসক সুষমা রেজা ও কুশল এবার আর্জেন্টিনাকে দুঃসংবাদ দিলেন আলোচিত ঘানার সেই তান্ত্রিক রাজধানীতে সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ আটক রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথ সামনে খুলবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু: জামায়াত আমির ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা বিরোধী দলকে জয়নুল আবদিন, আপনারা ৭১ সালে কোথায় ছিলেন?

আজমিরীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবন, শঙ্কায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা

নিজস্ব সংবাদ :

আজমিরীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবন, শঙ্কায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের ৪৭ নম্বর দিগলবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ভবনের ছাদ ও বিম থেকে প্রতিনিয়ত পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। ফলে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনও উপস্থিত হয়নি।

সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় এনে কোনো অভিভাবকই তাদের স্কুলে পাঠাতে রাজি হননি। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নিপু রাণী দাসের বাবা যাত্রাবর দাস বলেন, “প্রতিদিনই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। কয়েকদিন আগে অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের একটি পলেস্তারা খসে পড়ে। তখন সবাই আতঙ্কে বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসি। শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই আপাতত সবাই মিলে সন্তানদের স্কুলে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথিলা চৌধুরীর বাবা পঙ্কজ কান্তি দাস চৌধুরী বলেন, ‘যেভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশ খসে পড়ছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের সন্তানদের কিছু হলে এর দায় কে নেবে?’

আরেক অভিভাবক বলেন, ‘গ্রামবাসী সভা করে শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী দ্রুব দাস জানায়, ‘বিল্ডিং ভেঙে পড়তে পারে, তাই আমি স্কুলে যাচ্ছি না।’

অভিভাবকদের ভাষ্য, শুধু শিশুরাই নয়, তারাও বিদ্যালয় ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। সম্প্রতি এক অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে ছাদ থেকে বড় একটি পলেস্তারা খসে পড়লে উপস্থিত সবাই আতঙ্কে ভবন ছেড়ে বাইরে চলে যান।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল দৈনিক সময়ের আলো-এর অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ৩০ এপ্রিল হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন বিদ্যালয়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে না আসায় আমরা শিক্ষকদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাদের ফিরিয়ে আনতে পারিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৪:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
১৭ বার পড়া হয়েছে

আজমিরীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবন, শঙ্কায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা

আপডেট সময় ০৪:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের ৪৭ নম্বর দিগলবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ভবনের ছাদ ও বিম থেকে প্রতিনিয়ত পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। ফলে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনও উপস্থিত হয়নি।

সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় এনে কোনো অভিভাবকই তাদের স্কুলে পাঠাতে রাজি হননি। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নিপু রাণী দাসের বাবা যাত্রাবর দাস বলেন, “প্রতিদিনই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। কয়েকদিন আগে অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের একটি পলেস্তারা খসে পড়ে। তখন সবাই আতঙ্কে বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসি। শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই আপাতত সবাই মিলে সন্তানদের স্কুলে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথিলা চৌধুরীর বাবা পঙ্কজ কান্তি দাস চৌধুরী বলেন, ‘যেভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশ খসে পড়ছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের সন্তানদের কিছু হলে এর দায় কে নেবে?’

আরেক অভিভাবক বলেন, ‘গ্রামবাসী সভা করে শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী দ্রুব দাস জানায়, ‘বিল্ডিং ভেঙে পড়তে পারে, তাই আমি স্কুলে যাচ্ছি না।’

অভিভাবকদের ভাষ্য, শুধু শিশুরাই নয়, তারাও বিদ্যালয় ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। সম্প্রতি এক অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে ছাদ থেকে বড় একটি পলেস্তারা খসে পড়লে উপস্থিত সবাই আতঙ্কে ভবন ছেড়ে বাইরে চলে যান।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল দৈনিক সময়ের আলো-এর অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ৩০ এপ্রিল হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন বিদ্যালয়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে না আসায় আমরা শিক্ষকদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাদের ফিরিয়ে আনতে পারিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।