ইংল্যান্ডের ‘কারি ক্যাপিটাল’ লেস্টার: টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়
মহসিন হোসেন, লেস্টার (যুক্তরাজ্য) প্রতিনিধি: ইংল্যান্ডের রান্নার জগতে অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করল লেস্টার। গতবারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দুই বছরের জন্য আবারও ইংল্যান্ডের মর্যাদাপূর্ণ ‘কারি ক্যাপিটাল’ শিরোপা নিজেদের দখলে রাখল শহরটি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) লেস্টারের খ্যাতনামা ‘চাটনি আইভি’ রেস্তোরাঁর কর্ণধার শফিকুল ইসলাম (পলাশ) আয়োজিত এক জমকালো বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
২০২৪-২০২৬ মেয়াদে সফলভাবে শিরোপা উদযাপনের পর, এবারও লেস্টারকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় খাবারের জন্য বিখ্যাত ব্র্যাডফোর্ড, ম্যানচেস্টার, লন্ডন এবং বার্মিংহামের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে লেস্টার। চূড়ান্ত জনভোটে লেস্টার একাই পেয়েছে ৭৩.৬ শতাংশ ভোট। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ব্র্যাডফোর্ড।
যুক্তরাজ্যের অন্যান্য শহরগুলো যেখানে নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা অঞ্চলের খাবারের জন্য পরিচিত, সেখানে লেস্টারের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলের খাবারের স্বাদ মেলে। নেপাল, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী সব রান্নার কৌশল ও স্বাদের এক অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে লেস্টারের রেস্তোরাঁগুলোতে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে মাথাপিছু দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁর সংখ্যা লেস্টারেই সবচেয়ে বেশি। প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য এখানে গড়ে ৪৭টি রেস্তোরাঁ রয়েছে।

গত ১৮ জুন, ২০২৬ বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ‘ভিজিট লেস্টার’-এর প্লেস মার্কেটিং ম্যানেজার জ্যাকি লেজারের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্প্রচারক ও ফুড ট্রাভেলার ভালিসা চৌহানসহ শহরের নানা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি লেফটেন্যান্ট অধ্যাপক স্যার নাইলেশ সামানি, লেস্টারের লর্ড মেয়র কাউন্সিলর কুলউইন্ডার সিং জোহাল, লেস্টার ইস্টের এমপি শিভানি রাজা, লেস্টার সাউথের এমপি শকাত আদম এবং লেস্টারশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের নেতা ড্যান হ্যারিসন।
আয়োজকরা জানান, এই পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য কেবল সেরা খাবার খোঁজা নয়, বরং ব্রিটিশ সংস্কৃতিতে দক্ষিণ এশীয় খাবারের অবদান ও প্রভাবকে উদযাপন করা। কারি ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা রোমাইল গুলজার বলেন, আমাদের কারি ঐতিহ্য ইংল্যান্ডের পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রতিযোগী প্রতিটি শহরই যোগ্য ছিল, তবে জনসাধারণ যে আবারও লেস্টারকে বেছে নিয়েছে, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

একই অনুভূতি প্রকাশ করে ভিজিট লেস্টারের পরিচালক মাইক ডেনবি বলেন, এই শিরোপা আবারও আমাদের শহরে ফিরিয়ে আনতে পেরে আমি গর্বিত। ব্র্যাডফোর্ডের মতো শহরের সাথে লড়াইটা সহজ ছিল না। জনভোটের এই ঐতিহাসিক জয় আমাদের স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা ব্যবসার জন্য এক বিশাল উৎসাহের কারণ হবে। এই গৌরবময় অর্জন লেস্টারের পর্যটন ও খাদ্য খাতকে আরও চাঙ্গা করবে এবং বিশ্বজুড়ে কারিপ্রেমীদের এই শহরের বৈচিত্র্যময় স্বাদ নিতে আরও বেশি আকৃষ্ট করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




















