ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
সহকারী হাই কমিশনারের সঙ্গে বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহাম মিডল্যান্ডসের মতবিনিময় সৌদি আরবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রবাসী কর্মীদের জন্য কর্মঘন্টা ইংল্যান্ডের ‘কারি ক্যাপিটাল’ লেস্টার: টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় কোনো ধর্মই অন্যায় বা খারাপ কাজকে সমর্থন করে না: গয়েশ্বর চন্দ্র আ. লীগের তৎপরতা ঠেকাতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলাররা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছে: ইরানি কোচ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মার্কিন জনপ্রিয় অভিনেতা এস্পোসিতো সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

অ্যান্ডি বার্নহামের ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরে আসার পর লেবার পার্টির এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কয়েক দিনের তীব্র চাপের মুখে কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রী পদ থেকেই নন, একই সঙ্গে লেবার পার্টির প্রধান পদ থেকেও পদত্যাগ করছেন।

আজ সোমবার (২২ জুন) ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে স্ত্রীকে পাশে নিয়ে তিনি জনসমক্ষে এই ঘোষণা দেন। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত সমর্থকরা করতালি ও উল্লাসে তাকে বিদায় জানান। স্টারমারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তার দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম এর কাছে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম গত শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জয়ী হন।

এর মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নিজের আসন নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম হয়। এর পর থেকেই তাকে স্টারমারের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্নহাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন।

সম্প্রতি স্টারমারের পদত্যাগের দাবি উঠলে বার্নহাম মেয়রের দায়িত্ব ছেড়ে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেইকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন।

ঐতিহাসিক এই নির্বাচনী জয়ের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য নিজ দলের এমপিদের চাপের মুখে পড়তে হয়। অনেক এমপি আশঙ্কা করছিলেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের দলের উত্থান লেবার পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শুক্রবার পর্যন্ত স্টারমার বলেছিলেন, নেতৃত্বের জন্য কোনো প্রতিযোগিতা হলে তিনি লড়াই করবেন। তবে সপ্তাহান্তে মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা এবং চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সময় কাটানোর পর তিনি মত পরিবর্তন করেন বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, ছয়জনেরও বেশি ক্যাবিনেট মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। এর মধ্যেই স্টারমার ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা শনিবার থেকে তার পদত্যাগ ভাষণের খসড়া প্রস্তুত করতে শুরু করেন।

স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর লেবার পার্টিতে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এর মাধ্যমে আগামী এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে অ্যান্ডি বার্নহামকে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফিরেছেন।

তবে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাও হতে পারে। যদি অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা, যেমন ওয়েস স্ট্রিটিং প্রয়োজনীয় ৮১টি মনোনয়ন সংগ্রহ করতে না পারেন বা বার্নহামের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান, তাহলে তিনি সহজেই নেতৃত্ব পেতে পারেন। নতুন নেতা নির্বাচিত ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট এবং জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।

তবে লেবার পার্টির ভেতরে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু এমপি মনে করেন, বার্নহামকে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে দেওয়া উচিত, যাতে তার সক্ষমতা যাচাই করা যায়। অন্যদিকে অনেকের মতে, দীর্ঘ প্রতিযোগিতা দলটির জনপ্রিয়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই তারা দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে।

গত কয়েক মাস ধরে নেতৃত্ব নিয়ে চলা তীব্র চাপের পর কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন। তার নেতৃত্ব প্রথম বড় সংকটে পড়ে ফেব্রুয়ারিতে, যখন আনাস সারওয়ার প্রকাশ্যে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। সে সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কম থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবেলা এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতে যুক্তরাজ্যকে সরাসরি জড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছিল। তবে এপ্রিলে বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়। তখন জানা যায়, ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত পিটার ম্যান্ডেলসন নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও নিয়োগ পেয়েছেন।

লেবার পার্টির অনেক নেতা ও এমপি মনে করেন, এই নিয়োগ স্টারমারের ধারাবাহিক রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তেরই অংশ। এর মধ্যে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা সীমিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিতে কাটছাঁটের মতো সিদ্ধান্তও ছিল, যা জনমত জরিপে দলের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দেয়। পরে এসব সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও দলের ভেতরে তার অবস্থান আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক এমপি তাকে ক্রমশ দুর্বল ও অকার্যকর নেতা হিসেবে দেখতে শুরু করেন। এ ছাড়া তার যোগাযোগ ও জনসংযোগ দক্ষতা নিয়েও দলের ভেতরে অসন্তোষ ছিল।

মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার সময় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে গিয়ে অনেক লেবার এমপি বুঝতে পারেন যে কেয়ার স্টারমার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেকের মতে, তিনি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনঅসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে লেবার পার্টির সামনে থাকা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান ধীরে ধীরে জোরালো হতে থাকে। পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ে যখন ওয়েস স্ট্রিটিং নেতৃত্বের দৌড়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে না পেরে সরে দাঁড়ান। একই সময়ে মেকারফিল্ড আসনে উপনির্বাচনের সুযোগ তৈরি হলে অ্যান্ডি বার্নহাম সংসদে ফিরে আসেন এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে চলে আসেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৫:০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
১১ বার পড়া হয়েছে

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

অ্যান্ডি বার্নহামের ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরে আসার পর লেবার পার্টির এমপি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কয়েক দিনের তীব্র চাপের মুখে কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রী পদ থেকেই নন, একই সঙ্গে লেবার পার্টির প্রধান পদ থেকেও পদত্যাগ করছেন।

আজ সোমবার (২২ জুন) ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে স্ত্রীকে পাশে নিয়ে তিনি জনসমক্ষে এই ঘোষণা দেন। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত সমর্থকরা করতালি ও উল্লাসে তাকে বিদায় জানান। স্টারমারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তার দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম এর কাছে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম গত শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জয়ী হন।

এর মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নিজের আসন নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম হয়। এর পর থেকেই তাকে স্টারমারের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্নহাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন।

সম্প্রতি স্টারমারের পদত্যাগের দাবি উঠলে বার্নহাম মেয়রের দায়িত্ব ছেড়ে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেইকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন।

ঐতিহাসিক এই নির্বাচনী জয়ের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য নিজ দলের এমপিদের চাপের মুখে পড়তে হয়। অনেক এমপি আশঙ্কা করছিলেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের দলের উত্থান লেবার পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শুক্রবার পর্যন্ত স্টারমার বলেছিলেন, নেতৃত্বের জন্য কোনো প্রতিযোগিতা হলে তিনি লড়াই করবেন। তবে সপ্তাহান্তে মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা এবং চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সময় কাটানোর পর তিনি মত পরিবর্তন করেন বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, ছয়জনেরও বেশি ক্যাবিনেট মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। এর মধ্যেই স্টারমার ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা শনিবার থেকে তার পদত্যাগ ভাষণের খসড়া প্রস্তুত করতে শুরু করেন।

স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর লেবার পার্টিতে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এর মাধ্যমে আগামী এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে অ্যান্ডি বার্নহামকে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফিরেছেন।

তবে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাও হতে পারে। যদি অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা, যেমন ওয়েস স্ট্রিটিং প্রয়োজনীয় ৮১টি মনোনয়ন সংগ্রহ করতে না পারেন বা বার্নহামের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান, তাহলে তিনি সহজেই নেতৃত্ব পেতে পারেন। নতুন নেতা নির্বাচিত ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট এবং জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।

তবে লেবার পার্টির ভেতরে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু এমপি মনে করেন, বার্নহামকে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে দেওয়া উচিত, যাতে তার সক্ষমতা যাচাই করা যায়। অন্যদিকে অনেকের মতে, দীর্ঘ প্রতিযোগিতা দলটির জনপ্রিয়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই তারা দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে।

গত কয়েক মাস ধরে নেতৃত্ব নিয়ে চলা তীব্র চাপের পর কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন। তার নেতৃত্ব প্রথম বড় সংকটে পড়ে ফেব্রুয়ারিতে, যখন আনাস সারওয়ার প্রকাশ্যে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। সে সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কম থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবেলা এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতে যুক্তরাজ্যকে সরাসরি জড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছিল। তবে এপ্রিলে বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়। তখন জানা যায়, ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত পিটার ম্যান্ডেলসন নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও নিয়োগ পেয়েছেন।

লেবার পার্টির অনেক নেতা ও এমপি মনে করেন, এই নিয়োগ স্টারমারের ধারাবাহিক রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তেরই অংশ। এর মধ্যে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা সীমিত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিতে কাটছাঁটের মতো সিদ্ধান্তও ছিল, যা জনমত জরিপে দলের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দেয়। পরে এসব সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও দলের ভেতরে তার অবস্থান আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক এমপি তাকে ক্রমশ দুর্বল ও অকার্যকর নেতা হিসেবে দেখতে শুরু করেন। এ ছাড়া তার যোগাযোগ ও জনসংযোগ দক্ষতা নিয়েও দলের ভেতরে অসন্তোষ ছিল।

মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার সময় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে গিয়ে অনেক লেবার এমপি বুঝতে পারেন যে কেয়ার স্টারমার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেকের মতে, তিনি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনঅসন্তোষের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে লেবার পার্টির সামনে থাকা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান ধীরে ধীরে জোরালো হতে থাকে। পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ে যখন ওয়েস স্ট্রিটিং নেতৃত্বের দৌড়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে না পেরে সরে দাঁড়ান। একই সময়ে মেকারফিল্ড আসনে উপনির্বাচনের সুযোগ তৈরি হলে অ্যান্ডি বার্নহাম সংসদে ফিরে আসেন এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে চলে আসেন।