ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অণ্ডকোষ চেপে ধরে স্বাক্ষর নেয়া সেই লিটুকে অস্বীকার করল যুবদল

নিজস্ব সংবাদ :

বরিশালে ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। যদিও শুরুতে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল কর্মী বলে দাবি করা হলেও তিনি যুবদলের কেউ নন বলে স্পষ্ট করেছেন সংগঠনটির জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম।

আজ রোববার দুপুরে নগরীর সদর রোড থেকে অভিযুক্ত লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সময়ে দেশজুড়ে আলোচিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম দাবি করেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যুবদলের কোনো নেতা বা কর্মী নন। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি সারাদেশে ভাইরাল হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ২৭ জুনের। জানা গেছে, নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজের নিজ অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। যেখানে নগরীর কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও তার দল হামলা চালায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ব্যবসায়িক অফিস রুমের মধ্যে তিন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। দুর্বৃত্তরা রুমের ভেতরে ঢুকে দুজনকে বের করে দেয়। দুর্বৃত্তদের একজন চা পানরত অবস্থায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলে পড়ে। বয়স্ক ওই ব্যবসায়ী নিজেকে বাঁচাতে চিৎকার শুরু করলে রুমের বাহির থেকে তার সাহায্যে একজন এগিয়ে আসে। তবে, রুমের মধ্যে থাকা বাকি দুর্বৃত্তরা তাকে আটকে দেয়। এভাবে শারীরিক নির্যাতন চলতে থাকে কয়েক মিনিট।

একপর্যায়ে সাহায্যে এগিয়ে আসা ব্যক্তি ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ‘লিটু ভাই, লিটু ভাই’ বলে ডাকতে থাকে। এরপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুর্বৃত্তদের দাবি অনুযায়ী ওই ব্যবসায়ী চেক ও স্ট্যাম্পে সই করেন। এরপর হাতে স্ট্যাম্প দিয়ে ছবি তোলে তারা। তখন তাকে হাসিমুখে থাকতে নির্দেশ দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর স্ট্যাম্প ও চেক নিয়ে দুর্বৃত্তরা চলে যায়।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদারের দাবি, অভিযুক্ত লিটু তার অফিসে প্রবেশ করে তাকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক এবং দুটি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিকেলে পুলিশ কমিশনার মো. আসিক সাঈদ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৯:৫২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
১১ বার পড়া হয়েছে

অণ্ডকোষ চেপে ধরে স্বাক্ষর নেয়া সেই লিটুকে অস্বীকার করল যুবদল

আপডেট সময় ০৯:৫২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

বরিশালে ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। যদিও শুরুতে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে যুবদল কর্মী বলে দাবি করা হলেও তিনি যুবদলের কেউ নন বলে স্পষ্ট করেছেন সংগঠনটির জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম।

আজ রোববার দুপুরে নগরীর সদর রোড থেকে অভিযুক্ত লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সময়ে দেশজুড়ে আলোচিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম দাবি করেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যুবদলের কোনো নেতা বা কর্মী নন। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি সারাদেশে ভাইরাল হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ২৭ জুনের। জানা গেছে, নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজের নিজ অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। যেখানে নগরীর কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও তার দল হামলা চালায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ব্যবসায়িক অফিস রুমের মধ্যে তিন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। দুর্বৃত্তরা রুমের ভেতরে ঢুকে দুজনকে বের করে দেয়। দুর্বৃত্তদের একজন চা পানরত অবস্থায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলে পড়ে। বয়স্ক ওই ব্যবসায়ী নিজেকে বাঁচাতে চিৎকার শুরু করলে রুমের বাহির থেকে তার সাহায্যে একজন এগিয়ে আসে। তবে, রুমের মধ্যে থাকা বাকি দুর্বৃত্তরা তাকে আটকে দেয়। এভাবে শারীরিক নির্যাতন চলতে থাকে কয়েক মিনিট।

একপর্যায়ে সাহায্যে এগিয়ে আসা ব্যক্তি ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ‘লিটু ভাই, লিটু ভাই’ বলে ডাকতে থাকে। এরপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুর্বৃত্তদের দাবি অনুযায়ী ওই ব্যবসায়ী চেক ও স্ট্যাম্পে সই করেন। এরপর হাতে স্ট্যাম্প দিয়ে ছবি তোলে তারা। তখন তাকে হাসিমুখে থাকতে নির্দেশ দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর স্ট্যাম্প ও চেক নিয়ে দুর্বৃত্তরা চলে যায়।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদারের দাবি, অভিযুক্ত লিটু তার অফিসে প্রবেশ করে তাকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক এবং দুটি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিকেলে পুলিশ কমিশনার মো. আসিক সাঈদ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন।