ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

নিজস্ব সংবাদ :

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তার মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুত্রবধূ রাজিয়া রহমানও তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, তিনি মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরে খেতে গিয়েছিলেন তিনি।

সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে তিনি সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমরা স্যারের বাসায় যাচ্ছি। দাফন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলে জানাব।

আবুল কাসেম ফজলুল হক লেখক-প্রকাশক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফয়সল আরেফিন দীপনের বাবা। ২০১৫ সালে ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ প্রকশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের পর দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম।

নিরপেক্ষ রাজনীতি চিন্তা ও তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’র মতো তার লেখা অন্তত ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থও। অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৫:৩১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
১৭ বার পড়া হয়েছে

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

আপডেট সময় ০৫:৩১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

প্রখ্যাত লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তার মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের পুত্রবধূ রাজিয়া রহমানও তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, তিনি মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুপুরে খেতে গিয়েছিলেন তিনি।

সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে তিনি সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমরা স্যারের বাসায় যাচ্ছি। দাফন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলে জানাব।

আবুল কাসেম ফজলুল হক লেখক-প্রকাশক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফয়সল আরেফিন দীপনের বাবা। ২০১৫ সালে ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ প্রকশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির কার্যালয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের পর দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছিল জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম।

নিরপেক্ষ রাজনীতি চিন্তা ও তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’র মতো তার লেখা অন্তত ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’র মতো একাধিক গ্রন্থও। অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।