ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
​লেস্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘হোম কেয়ার’এর শুভ উদ্বোধন স্পেনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা: বাড়ছে অসন্তোষ , হস্তক্ষেপ কামনা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাদের একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার স্পেনে শ্রমিকদের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ, দূতাবাসের নজরদারির আহ্বান ‘আগামী নির্বাচনেও প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের আওতায় থাকবেন’ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে যাচ্ছেন স্পিকার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড আমরা ব্রাজিলিয়ানরাও বাংলাদেশকে ভালোবাসি: আলিসন বেকার সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস ‘ব্রাজিল একসময়ের পরাশক্তি দল, কিন্তু আজকাল তেমন কিছু শুনি না’

স্পেনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা: বাড়ছে অসন্তোষ , হস্তক্ষেপ কামনা

অলিউর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি মাদ্রিদ-স্পেন:

স্পেনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা অসন্তোষ বাড়ছে হস্তক্ষেপ কামনা

অলিউর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি মাদ্রিদ-স্পেন: স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করছেন যে, কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের মালিক স্পেনের প্রচলিত শ্রম আইন উপেক্ষা করে শ্রমিকদের দৈনিক ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করাচ্ছেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ, মানসিক চাপ এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শ্রমিকদের দাবি, অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ ওভারটাইম ভাতা প্রদান করা হয় না। অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। ফলে তারা এক ধরনের নীরব শোষণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্পেন ইউরোপের এমন একটি দেশ যেখানে শ্রমিক অধিকার ও মানবিক কর্মপরিবেশকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, বিশ্রামের সময় এবং ওভারটাইম সংক্রান্ত স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এসব আইন বাস্তবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় কাজ করালে শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কর্মদক্ষতা কমে যায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং পরিবার ও সামাজিক জীবনে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হয়। একটি উন্নত ও মানবিক সমাজে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা শুধু আইনি নয়, নৈতিক দায়িত্বও।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা স্পেন সরকারের সংশ্লিষ্ট শ্রম মন্ত্রণালয়, শ্রম পরিদর্শন কর্তৃপক্ষ এবং স্পেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসেরও উচিত প্রবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ও পরামর্শমূলক সহায়তা প্রদান করা। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি শ্রম আইন মেনে চলা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো প্রয়োজন।

প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানে বাংলাদেশ যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, তেমনি তাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করাও রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব। স্পেনে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ন্যায্য কর্মঘণ্টা ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৮:২৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
৩২ বার পড়া হয়েছে

স্পেনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা: বাড়ছে অসন্তোষ , হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় ০৮:২৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

অলিউর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি মাদ্রিদ-স্পেন: স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অভিযোগ করছেন যে, কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের মালিক স্পেনের প্রচলিত শ্রম আইন উপেক্ষা করে শ্রমিকদের দৈনিক ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করাচ্ছেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ, মানসিক চাপ এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শ্রমিকদের দাবি, অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ ওভারটাইম ভাতা প্রদান করা হয় না। অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। ফলে তারা এক ধরনের নীরব শোষণের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্পেন ইউরোপের এমন একটি দেশ যেখানে শ্রমিক অধিকার ও মানবিক কর্মপরিবেশকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, বিশ্রামের সময় এবং ওভারটাইম সংক্রান্ত স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এসব আইন বাস্তবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় কাজ করালে শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কর্মদক্ষতা কমে যায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং পরিবার ও সামাজিক জীবনে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হয়। একটি উন্নত ও মানবিক সমাজে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা শুধু আইনি নয়, নৈতিক দায়িত্বও।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা স্পেন সরকারের সংশ্লিষ্ট শ্রম মন্ত্রণালয়, শ্রম পরিদর্শন কর্তৃপক্ষ এবং স্পেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসেরও উচিত প্রবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ও পরামর্শমূলক সহায়তা প্রদান করা। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি শ্রম আইন মেনে চলা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো প্রয়োজন।

প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানে বাংলাদেশ যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, তেমনি তাদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করাও রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব। স্পেনে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ন্যায্য কর্মঘণ্টা ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।