ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
সহকারী হাই কমিশনারের সঙ্গে বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহাম মিডল্যান্ডসের মতবিনিময় সৌদি আরবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রবাসী কর্মীদের জন্য কর্মঘন্টা ইংল্যান্ডের ‘কারি ক্যাপিটাল’ লেস্টার: টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় কোনো ধর্মই অন্যায় বা খারাপ কাজকে সমর্থন করে না: গয়েশ্বর চন্দ্র আ. লীগের তৎপরতা ঠেকাতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলাররা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছে: ইরানি কোচ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মার্কিন জনপ্রিয় অভিনেতা এস্পোসিতো সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট মুক্ত দেশ গড়া হবে: জামায়াত আমির

নিজস্ব সংবাদ :

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট মুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় এসেছিলাম। মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। সেদিন এসেছিলাম দ্বীনদার ও ইমানদার ৪৫ জন শহীদের পরিবারের খোঁজ নিতে। তাদের মা–বাবার পাশে দাঁড়াতে। যেসব মা ও বোনদের বিধবা করা হয়েছিল, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। যেসব শিশু বাবাকে হারিয়ে অন্ধকার দেখছিল, চেয়ে চেয়ে দেখছিল-আমাদের বাবা আসছে না কেন-তাদের চোখের পানি মুছিয়ে দিতে এসেছিলাম। যেসব যুবকের হাত-পা কেটে নেওয়া হয়েছিল, আমি তাদের প্রশ্নের অংশীদার হতে এসেছিলাম।

তিনি বলেন, সেই সময় তাদের মায়ের চোখের পানি দেখেছি, রক্তের ফোঁটা দেখেছিলাম। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। দেশের আর কোনো জেলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। বুলডোজার দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ঘর ভাঙা হয়েছে। তারা কি কোনো অপরাধ করেছিল?

জামায়াত আমির বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় সফরের সময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগ শুনেছিলাম। অনেকেই বলেছিলেন, সরকার সাতক্ষীরাকে দেশের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেয়নি। এই জেলার সঙ্গে সৎমায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা ভেবেছিল এ অবস্থা চিরকাল থাকবে; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন, আর যাকে ইচ্ছা কেড়ে নেন।

শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, ইনসাফের পক্ষে যারা থাকে, আল্লাহ শেষপর্যন্ত তাদের সম্মান দেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট আল্লাহ যখন আমাদের এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। জননিরাপত্তা রক্ষায় নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের কথা বলেছি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি শুরু করেনি। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলা দেওয়া হয়নি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক সময় জুলুমের শিকার মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমর্থন চান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৭:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
৯৩ বার পড়া হয়েছে

চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট মুক্ত দেশ গড়া হবে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৭:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট মুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় এসেছিলাম। মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। সেদিন এসেছিলাম দ্বীনদার ও ইমানদার ৪৫ জন শহীদের পরিবারের খোঁজ নিতে। তাদের মা–বাবার পাশে দাঁড়াতে। যেসব মা ও বোনদের বিধবা করা হয়েছিল, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। যেসব শিশু বাবাকে হারিয়ে অন্ধকার দেখছিল, চেয়ে চেয়ে দেখছিল-আমাদের বাবা আসছে না কেন-তাদের চোখের পানি মুছিয়ে দিতে এসেছিলাম। যেসব যুবকের হাত-পা কেটে নেওয়া হয়েছিল, আমি তাদের প্রশ্নের অংশীদার হতে এসেছিলাম।

তিনি বলেন, সেই সময় তাদের মায়ের চোখের পানি দেখেছি, রক্তের ফোঁটা দেখেছিলাম। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। দেশের আর কোনো জেলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। বুলডোজার দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ঘর ভাঙা হয়েছে। তারা কি কোনো অপরাধ করেছিল?

জামায়াত আমির বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় সফরের সময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগ শুনেছিলাম। অনেকেই বলেছিলেন, সরকার সাতক্ষীরাকে দেশের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেয়নি। এই জেলার সঙ্গে সৎমায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা ভেবেছিল এ অবস্থা চিরকাল থাকবে; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন, আর যাকে ইচ্ছা কেড়ে নেন।

শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, ইনসাফের পক্ষে যারা থাকে, আল্লাহ শেষপর্যন্ত তাদের সম্মান দেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট আল্লাহ যখন আমাদের এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। জননিরাপত্তা রক্ষায় নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের কথা বলেছি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি শুরু করেনি। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলা দেওয়া হয়নি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক সময় জুলুমের শিকার মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমর্থন চান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।