সিলেটে হাম ও উপসর্গে ২০০ ছাড়াল প্রাণহানি সংখ্যা
সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানি আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলেছে। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরও তিন শিশু। এ নিয়ে চলতি বছর (১ জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর) বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এ পৌঁছাল।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে রয়েছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শহীদুল ইসলামের এক বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ আল সাফওয়ান, কোম্পানীগঞ্জের মকবুল হোসেনের নয় মাস বয়সী ছেলে জিসান আহমেদ এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মিজানুর রহমানের ৪ মাস বয়সী ছেলে জায়ান।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, এই তিন শিশু চরম অপুষ্টির পাশাপাশি নিউমোনিয়া, হৃদরোগ ও জন্ডিসের মতো নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম বা হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশই হাম প্রতিরোধক নিয়মিত টিকা পায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের শুক্রবারের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১ হাজার ১১৫ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে ৪৪২ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, হবিগঞ্জে ১৫৮ জন (এর মধ্যে রুবেলায় আক্রান্ত দুজন এবং মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন) রয়েছে।
বিভাগে এ পর্যন্ত প্রাণ হারানো ২০০ জনের মধ্যে ১০ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় সরাসরি হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি ১৯০ জন মারা গেছেন হামসহ নানা উপসর্গে। জেলাভিত্তিক মৃত্যুর চিত্রে দেখা যায়—সন্দেহভাজন বা উপসর্গ নিয়ে সিলেটে ৭৯, সুনামগঞ্জে ৬৮, হবিগঞ্জে ২৮ এবং মৌলভীবাজারে ১৫ জন মারা গেছেন। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে সিলেটে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন ও সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সিলেট বিভাগে প্রতিদিন নতুন নতুন আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৯ জন, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৯ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।




















