ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
সৌদি আরবে রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ আজ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ সৌদি আরবে দেশি প্রতারকের সাথে বাড়ছে স্থানীয় কফিলদের মিথ্যা প্রলোভন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ‘মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ৭০ লাখ বেসামরিক ইরানি’ বিশ্ব বড় সংঘাতের মুখে: সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব: ১৮ দিনে ১৩ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৭০৯ মৌলভীবাজারে বিনা চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ সিলেটে বন্ধ থাকার পর ১৬ ঘণ্টা পর খুলেছে পেট্রোল পাম্প ‘ইংরেজি শিখতে সচিবদের থাইল্যান্ড পাঠানোর খবর অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক’

সিলেটে বন্ধ থাকার পর ১৬ ঘণ্টা পর খুলেছে পেট্রোল পাম্প

নিজস্ব সংবাদ :

টানা ১৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়ায় পাম্পগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। বিপুলসংখ্যক যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ২টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পাম্প মালিকদের সাথে বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।

এই ঘোষণার পরপরই খুলতে শুরু করেছে পাম্পগুলো। টানা ১৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়ায় পাম্পগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। বিপুলসংখ্যক যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো।

এর আগে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদসহ বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ এনে বুধবার রাত ১০টার দিকে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। প্রশাসনের আশ্বাসে রাত ৩টার দিকে পেট্রোল পাম্প মালিক সংগঠনের মুখপাত্র রিয়াসাদ আদনান ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তা মানেননি পাম্প মালিকরা। ফলে বুধবার রাত ১০টা থেকে সিলেটের বিভাগের সব পাম্পে তেল ও গ্যাস বিক্রি বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটের প্রায় সবকটি পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল ও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক চালক। আচমকা ডাকা এ ধর্মঘটের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কেউ কেউ যানবাহন পাম্পেই রেখে চলে যান।

এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানে দুপুর ১২টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পাম্প মালিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সিলেট নগরীর একাধিক গ্যাস ও পেট্রোল পাম্পে গিয়ে বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। পাম্পগুলোতে সারিবদ্ধভাবে যানবাহন থাকতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপারে প্রশাসনের আশ্বাসে পাম্প মালিকরা আশ্বস্ত হতে পারেননি। তাই দুপুর পর্যন্ত বিভাগের সব পাম্প বন্ধ ছিল। দুপুর ২টায় প্রশাসনের সাথে বৈঠক শেষে পাম্প খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে পাম্পগুলোতে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।

ফিলিং স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিলেটের এক পাম্প মালিকের দুই পাম্পের একটিতে ট্যাগ কর্মকর্তা, র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্তৃক হিসাব না রাখার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরটিতে এক পাম্পের তেল আরেক পাম্পে নেয়ার দায়ে জরিমানা করা হয়। এ সময় মালিককে বিনা কারণে ছয় ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৭:৪২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
১৬ বার পড়া হয়েছে

সিলেটে বন্ধ থাকার পর ১৬ ঘণ্টা পর খুলেছে পেট্রোল পাম্প

আপডেট সময় ০৭:৪২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

টানা ১৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়ায় পাম্পগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। বিপুলসংখ্যক যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ২টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পাম্প মালিকদের সাথে বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।

এই ঘোষণার পরপরই খুলতে শুরু করেছে পাম্পগুলো। টানা ১৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়ায় পাম্পগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। বিপুলসংখ্যক যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পাম্পগুলো।

এর আগে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদসহ বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ এনে বুধবার রাত ১০টার দিকে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। প্রশাসনের আশ্বাসে রাত ৩টার দিকে পেট্রোল পাম্প মালিক সংগঠনের মুখপাত্র রিয়াসাদ আদনান ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তা মানেননি পাম্প মালিকরা। ফলে বুধবার রাত ১০টা থেকে সিলেটের বিভাগের সব পাম্পে তেল ও গ্যাস বিক্রি বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটের প্রায় সবকটি পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল ও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক চালক। আচমকা ডাকা এ ধর্মঘটের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন তারা। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কেউ কেউ যানবাহন পাম্পেই রেখে চলে যান।

এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানে দুপুর ১২টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. যাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পাম্প মালিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সিলেট নগরীর একাধিক গ্যাস ও পেট্রোল পাম্পে গিয়ে বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। পাম্পগুলোতে সারিবদ্ধভাবে যানবাহন থাকতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপারে প্রশাসনের আশ্বাসে পাম্প মালিকরা আশ্বস্ত হতে পারেননি। তাই দুপুর পর্যন্ত বিভাগের সব পাম্প বন্ধ ছিল। দুপুর ২টায় প্রশাসনের সাথে বৈঠক শেষে পাম্প খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে পাম্পগুলোতে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।

ফিলিং স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিলেটের এক পাম্প মালিকের দুই পাম্পের একটিতে ট্যাগ কর্মকর্তা, র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্তৃক হিসাব না রাখার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরটিতে এক পাম্পের তেল আরেক পাম্পে নেয়ার দায়ে জরিমানা করা হয়। এ সময় মালিককে বিনা কারণে ছয় ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।