ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব সংবাদ :

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয় সুইজারল্যান্ড। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্র, পুলিশ সংস্কার, আর্থিক খাতের সংস্কার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, ডিজিটাল প্রতারণা, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। আমরা প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই। সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের অধিকার রয়েছে, তবে তা যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে।’

তিনি অতীত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের সমালোচনাও করেন।

রাষ্ট্রদূত রেংগলি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংস্কারে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’–এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশ এখন ডিজিটাল প্রতারণা, যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’ রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে উগ্রবাদের উপস্থিতি সীমিত এবং তা সন্ত্রাসবাদের পর্যায়ে পৌঁছেনি। পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) ও ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।’

আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সংস্কার অপরিহার্য।’ রাষ্ট্রদূত এতে একমত পোষণ করেন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:৩২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
৬১ বার পড়া হয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আপডেট সময় ০৬:৩২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয় সুইজারল্যান্ড। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্র, পুলিশ সংস্কার, আর্থিক খাতের সংস্কার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, ডিজিটাল প্রতারণা, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। আমরা প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই। সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের অধিকার রয়েছে, তবে তা যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে।’

তিনি অতীত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের সমালোচনাও করেন।

রাষ্ট্রদূত রেংগলি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংস্কারে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’–এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশ এখন ডিজিটাল প্রতারণা, যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’ রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে উগ্রবাদের উপস্থিতি সীমিত এবং তা সন্ত্রাসবাদের পর্যায়ে পৌঁছেনি। পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) ও ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।’

আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সংস্কার অপরিহার্য।’ রাষ্ট্রদূত এতে একমত পোষণ করেন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি উপস্থিত ছিলেন।