ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামলে দায়ী থাকবেন মালিকরা: কুয়েত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুন্দরবন ছেড়ে আবারও লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্কে ৫ গ্রামের মানুষ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর ১০০-র পর ২০০ মিটারেও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন ইমরানুর ও শিরিন, জিতলেন শিরোপা সুনামগঞ্জের আলোচিত এসিল্যান্ডকে সিলেটে বদলি জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের পক্ষেই ছিলেন পলক: আইনজীবী জ্বালানি নিরাপত্তায় জাইকার বাজেট সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ‘ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে পুলিশকে কলঙ্কিত করছেন আইজিপি’ ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে রাজনীতি ছাড়লেন ছাত্রদল নেতা

সুন্দরবন ছেড়ে আবারও লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্কে ৫ গ্রামের মানুষ

নিজস্ব সংবাদ :

সুন্দরবন ছেড়ে আবারও লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে একটি বাঘ। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন পূর্ব সোনাতলা গ্রামে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালিয়েও সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনভর কোনো সন্ধান পাননি বন বিভাগের সদস্যরা। এ পরিস্থিতিতে বনসংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়েছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয়দের মতে, ভোলা নদী সাঁতরে বাঘটি সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ধানক্ষেত, সবজিখেত, বাড়ির আঙিনা ও নদীর চরে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। বাঘটি এখনো লোকালয়ের কোনো ঝোপঝাড় বা ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সুন্দরবন বিভাগের কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) টিমের সদস্য মো. খলিল জমাদ্দার জানান, রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পূর্ব সোনাতলা গ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের বাড়ির সামনে, আবু রাজ্জাক আকনের মাছের ঘেরের পাড় এবং আশপাশের ধানক্ষেতে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি) ও সিপিজি সদস্যদের জানানো হয়।

খবর পেয়ে সোমবার ভোরে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পায়ের ছাপ পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা দেখতে পান, বাঘটি ধানক্ষেতের দিকে গেছে। পরে ড্রোন উড়িয়ে দিনভর তল্লাশি চালানো হলেও বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নদীর চরে বাঘটির সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ার কোনো পায়ের ছাপও পাওয়া যায়নি।

খলিল জমাদ্দার আরও জানান, বাঘটির বিচরণের চিহ্ন প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাওয়া গেছে। পানিরঘাট, মডেল বাজার, সোনাতলা ও পূর্ব সোনাতলা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে এসব ছাপ দেখা গেছে। বাঘটি লোকালয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে-এমন আশঙ্কায় স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।

সিপিজির সহকারী টিম লিডার মো. সাচ্চু আকন বলেন, ধান ও সবজিখেতের আইলে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঘের ভয়ে মানুষের চলাচল কমে গেছে। সোমবার সকাল থেকে শরণখোলা, পানিরঘাট, সোনাতলা, মডেল বাজার ও পূর্ব সোনাতলাসহ প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার মানুষকে সতর্ক করে মাইকিং করা হচ্ছে।

পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. রতন খান জানান, রাতে গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের গোয়ালঘরের আশপাশে বাঘের বিচরণের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ছাড়া পানিরঘাট এলাকার আসাদুল হাওলাদারের রান্নাঘরের পেছনেও বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। তাঁর ধারণা, বাঘটি এখনো লোকালয়ের কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারে।

শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পায়ের ছাপ দেখে বাঘটি সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী সাঁতরে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহলে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১১:৩০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১২ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবন ছেড়ে আবারও লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্কে ৫ গ্রামের মানুষ

আপডেট সময় ১১:৩০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবন ছেড়ে আবারও লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে একটি বাঘ। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন পূর্ব সোনাতলা গ্রামে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালিয়েও সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনভর কোনো সন্ধান পাননি বন বিভাগের সদস্যরা। এ পরিস্থিতিতে বনসংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার মানুষকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়েছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয়দের মতে, ভোলা নদী সাঁতরে বাঘটি সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। ধানক্ষেত, সবজিখেত, বাড়ির আঙিনা ও নদীর চরে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। বাঘটি এখনো লোকালয়ের কোনো ঝোপঝাড় বা ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সুন্দরবন বিভাগের কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) টিমের সদস্য মো. খলিল জমাদ্দার জানান, রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পূর্ব সোনাতলা গ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের বাড়ির সামনে, আবু রাজ্জাক আকনের মাছের ঘেরের পাড় এবং আশপাশের ধানক্ষেতে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি) ও সিপিজি সদস্যদের জানানো হয়।

খবর পেয়ে সোমবার ভোরে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পায়ের ছাপ পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা দেখতে পান, বাঘটি ধানক্ষেতের দিকে গেছে। পরে ড্রোন উড়িয়ে দিনভর তল্লাশি চালানো হলেও বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নদীর চরে বাঘটির সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ার কোনো পায়ের ছাপও পাওয়া যায়নি।

খলিল জমাদ্দার আরও জানান, বাঘটির বিচরণের চিহ্ন প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাওয়া গেছে। পানিরঘাট, মডেল বাজার, সোনাতলা ও পূর্ব সোনাতলা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে এসব ছাপ দেখা গেছে। বাঘটি লোকালয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে-এমন আশঙ্কায় স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।

সিপিজির সহকারী টিম লিডার মো. সাচ্চু আকন বলেন, ধান ও সবজিখেতের আইলে বাঘের পায়ের তাজা ছাপ দেখে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঘের ভয়ে মানুষের চলাচল কমে গেছে। সোমবার সকাল থেকে শরণখোলা, পানিরঘাট, সোনাতলা, মডেল বাজার ও পূর্ব সোনাতলাসহ প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার মানুষকে সতর্ক করে মাইকিং করা হচ্ছে।

পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. রতন খান জানান, রাতে গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের গোয়ালঘরের আশপাশে বাঘের বিচরণের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ছাড়া পানিরঘাট এলাকার আসাদুল হাওলাদারের রান্নাঘরের পেছনেও বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। তাঁর ধারণা, বাঘটি এখনো লোকালয়ের কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারে।

শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পায়ের ছাপ দেখে বাঘটি সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী সাঁতরে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহলে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।