সিলেটে পাঁচ দিনে ১১ লাশ, বাড়ছে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা
সিলেটে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে সিলেট মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১১টি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে ঝুলন্ত মরদেহ, সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, গলাকাটা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা।
কখনও পারিবারিক কলহ, কখনও দুর্ঘটনা, আবার কোথাও অপরাধমূলক ঘটনার কারণে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সিলেটজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেটের জকিগঞ্জ থানাধীন বারহাল ইউনিয়নে বসতঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—চম্পা রাণী দাশ (৩৫) ও তার মেয়ে হৃদি রাণী দাশ (৫)। চম্পা রাণী দাশ জকিগঞ্জ উপজেলার শাহগলী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী রতন দাশের স্ত্রী। তিনি গর্ভবতী ছিলেন বলেও জানা গেছে।
একই দিন দুপুর ২টার দিকে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন কান্দিগাঁও এলাকা থেকে আল-আমিন (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নলকট এলাকার আলী আসকরের ছেলে।
এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে এয়ারপোর্ট থানাধীন কামারটিলা এলাকা থেকে নাবিল হুসাইন (২১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন দুপুরে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শ্রীধরা গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অর্জুন রবি দাস (৩৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ সুরমা থানার খোজারখলা এলাকা থেকে আমিন (১৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মো. শুকুর মিয়া ও নাজমা বেগমের ছেলে। ঘটনার সময় তার বাবা-মা ও বড় ভাই গ্রামের বাড়িতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
একই দিন বিকেল ৫টার দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের গোটারগ্রাম এলাকা থেকে মাসুদ আহমদ (১৫) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হালিম আদুল মিয়ার ছোট ছেলে।
এর আগের দিন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালেই সিলেটবাসী পায় মৃত্যুর খবর। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় সকাল ৭টার দিকে গাড়ির ধাক্কায় আহমদ আলী (২০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হন। তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার মহিমাওরা গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে।
ওই দিন রাতেই এয়ারপোর্ট থানাধীন পশ্চিম পাঠানগাঁও এলাকায় নিজ বসতঘর থেকে জমির আলী (৪০) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের করম আলীর ছেলে।
সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মিনাটিলা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে জামিল আহমেদ শিষ (২০) নামে এক বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধীন মিনাটিলা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন।
সিলেটে মাত্র পাঁচ দিনে একাধিক ঝুলন্ত, গলাকাটা, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত করছে। কোনো কোনো ঘটনায় ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।




















