ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
‘বাজে চরিত্রে অভিনয় করেছি, কিন্তু নেতাদের মতো খারাপ নই’ প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে নতুন ইতিহাস শানাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানের যে শহরে তৈরি হয় বিশ্বের ৭০% ফুটবল ফেনীর মুহুরীগঞ্জে বাস-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে নিহত ৩ জন প্রেষণে বদলি, শিক্ষককে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মাধবপুরে মানববন্ধন ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে: মির্জা আব্বাস স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা এনসিপির ‘সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯’

পাকিস্তানের যে শহরে তৈরি হয় বিশ্বের ৭০% ফুটবল

নিজস্ব সংবাদ :

পাকিস্তানের যে শহরে তৈরি হয় বিশ্বের ৭০% ফুটবল

ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা ছড়িয়ে আছে গোটা বিশ্বে। কিন্তু যে বলটি দিয়ে মাঠে খেলা হয়, এত রোমাঞ্চকর মুহূর্তের জন্ম হয়, সেটির বিশাল এক অংশ আসে পাকিস্তানের একটি শহর থেকে। শহরটির নাম শিয়ালকোট। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ফুটবল তৈরি হয় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের এই শহরে। তাই শিয়ালকোটকে বলা হয় বিশ্বের ‘ফুটবল কারখানা’।

শুধু সাধারণ ফুটবল নয়, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের বল তৈরিতেও শিয়ালকোটের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।

১৯৮২ সাল থেকে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল তৈরির সঙ্গে যুক্ত এই শহর। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ও তৈরি হয়েছে শিয়ালকোটের কারখানায়।
শিয়ালকোটের ফুটবল তৈরির ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। স্থানীয়ভাবে ফুটবল মেরামতের কাজ থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বড় শিল্প।

এখন শহরটির কারখানাগুলো থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।
বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে বছরে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি হয়, যার বড় অংশই আসে শিয়ালকোট থেকে।

এই শহরের ফুটবল তৈরির বিশেষত্ব হলো দক্ষ কারিগরদের হাতের কাজ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও অনেক বল এখনো হাতে সেলাই করেন অভিজ্ঞ কারিগররা। একজন দক্ষ কারিগর দিনে প্রায় চারটি বল সেলাই করতে পারেন।

একটি বল নিখুঁতভাবে তৈরি করতে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।
বিশ্বকাপের বল তৈরির ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ করা হয় আরো কঠোরভাবে। বলের আকৃতি, ওজন, আকার, সেলাই ও মাঠে কার্যকারিতা—সবকিছুই পরীক্ষা করা হয়। বিশ্বকাপের একটি নতুন বল তৈরি ও পরীক্ষার পেছনে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ বিশ্বকাপের বল তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পরিচিত। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের ট্রাইওন্ডা—বিশ্বকাপের একাধিক প্রজন্মের বল তৈরির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নাম জড়িয়ে আছে।

শিয়ালকোট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শেখ জোহাইব রফিক শেঠি ২০২২ সালে বলেছিলেন, বিশ্বকাপের বল শিয়ালকোটে তৈরি হওয়ায় শহরটির মর্যাদা আরো বেড়েছে।

শেখ জোহাইব রফিক শেঠি আরো জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের বল তৈরিতে পরিবেশবান্ধব উপাদান ও পানিভিত্তিক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

শিয়ালকোটে তৈরি বল শহরের ক্লাব, স্কুল, একাডেমি ও সাধারণ খেলোয়াড়দের ব্যবহারের জন্যও তৈরি হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পাশাপাশি নিজেদের লোগোযুক্ত বলও তৈরি করিয়ে নেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফুটবল মাঠে গড়ানোর আগে যে শহরের হাজারো মানুষের হাত ঘুরে আসে, সেই শিয়ালকোট তাই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অচেনা হলেও খেলাটির দুনিয়ায় তার গুরুত্ব বিশাল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১২:০০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের যে শহরে তৈরি হয় বিশ্বের ৭০% ফুটবল

আপডেট সময় ১২:০০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা ছড়িয়ে আছে গোটা বিশ্বে। কিন্তু যে বলটি দিয়ে মাঠে খেলা হয়, এত রোমাঞ্চকর মুহূর্তের জন্ম হয়, সেটির বিশাল এক অংশ আসে পাকিস্তানের একটি শহর থেকে। শহরটির নাম শিয়ালকোট। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ফুটবল তৈরি হয় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের এই শহরে। তাই শিয়ালকোটকে বলা হয় বিশ্বের ‘ফুটবল কারখানা’।

শুধু সাধারণ ফুটবল নয়, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের বল তৈরিতেও শিয়ালকোটের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।

১৯৮২ সাল থেকে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল তৈরির সঙ্গে যুক্ত এই শহর। সর্বশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ও তৈরি হয়েছে শিয়ালকোটের কারখানায়।
শিয়ালকোটের ফুটবল তৈরির ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। স্থানীয়ভাবে ফুটবল মেরামতের কাজ থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বড় শিল্প।

এখন শহরটির কারখানাগুলো থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।
বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে বছরে প্রায় চার কোটি ফুটবল রপ্তানি হয়, যার বড় অংশই আসে শিয়ালকোট থেকে।

এই শহরের ফুটবল তৈরির বিশেষত্ব হলো দক্ষ কারিগরদের হাতের কাজ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও অনেক বল এখনো হাতে সেলাই করেন অভিজ্ঞ কারিগররা। একজন দক্ষ কারিগর দিনে প্রায় চারটি বল সেলাই করতে পারেন।

একটি বল নিখুঁতভাবে তৈরি করতে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।
বিশ্বকাপের বল তৈরির ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ করা হয় আরো কঠোরভাবে। বলের আকৃতি, ওজন, আকার, সেলাই ও মাঠে কার্যকারিতা—সবকিছুই পরীক্ষা করা হয়। বিশ্বকাপের একটি নতুন বল তৈরি ও পরীক্ষার পেছনে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

শিয়ালকোটের ‘ফরোয়ার্ড স্পোর্টস’ বিশ্বকাপের বল তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পরিচিত। ২০১৪ সালের ব্রাজুকা, ২০১৮ সালের টেলস্টার, ২০২২ সালের আল রিহলা এবং ২০২৬ সালের ট্রাইওন্ডা—বিশ্বকাপের একাধিক প্রজন্মের বল তৈরির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নাম জড়িয়ে আছে।

শিয়ালকোট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শেখ জোহাইব রফিক শেঠি ২০২২ সালে বলেছিলেন, বিশ্বকাপের বল শিয়ালকোটে তৈরি হওয়ায় শহরটির মর্যাদা আরো বেড়েছে।

শেখ জোহাইব রফিক শেঠি আরো জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের বল তৈরিতে পরিবেশবান্ধব উপাদান ও পানিভিত্তিক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

শিয়ালকোটে তৈরি বল শহরের ক্লাব, স্কুল, একাডেমি ও সাধারণ খেলোয়াড়দের ব্যবহারের জন্যও তৈরি হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পাশাপাশি নিজেদের লোগোযুক্ত বলও তৈরি করিয়ে নেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফুটবল মাঠে গড়ানোর আগে যে শহরের হাজারো মানুষের হাত ঘুরে আসে, সেই শিয়ালকোট তাই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অচেনা হলেও খেলাটির দুনিয়ায় তার গুরুত্ব বিশাল।