ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলায় আহত সারজিসসহ অনেকে জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা হবিগঞ্জে এনসিপি-ছাত্রদল সংঘর্ষ, পাটওয়ারী-সারজিসকে অবরুদ্ধ ফেঞ্চুগঞ্জের সেই স্কুলশিক্ষিকার পাশে ডা. মাহমুদা মিতু রাজধানীতে দেয়াল ধসে প্রাণ গেল দুইজনের, আহত অন্তত ৬ উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে এখনও বঞ্চিত মাধবপুরের বাঘাসুরা ইউনিয়ন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন লেস্টারের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য সামার বাংলাদেশী ফেস্টিভ্যাল আয়োজন অবশেষে ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল বাড়ল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সম্মানি ভাতা সিলেট মহানগরীতে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯২

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলায় আহত সারজিসসহ অনেকে

নিজস্ব সংবাদ :

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলায় আহত সারজিসসহ অনেকে

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে দলটির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় রাত পৌনে ৮টায় হবিগঞ্জে অবস্থানরত এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে আমরা যখন পরবর্তী নির্ধারিত কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজারের দিকে রওনা হই, ঠিক সেই সময় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল সন্ত্রাসী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। হামলাকারীরা আমাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গাড়িচালক থেকে শুরু করে আমাদের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই ন্যাক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে যারা অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক হামলাকারী, তাদের মদদদাতা এবং দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে থানার মোড় এলাকায় তাদের বহরের ওপর হামলা হয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম একটি ব্যাংকে অবস্থান নেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। এই এলাকায় বাইরে থেকে এসে কিছু লোক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। এর জবাবে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া দেয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন।

রিংগন আরও বলেন, উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শান্তিপূর্ণ শহরের পরিবেশ নষ্টের দায় যারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তারাই বহন করবে। এনসিপির নেতাকর্মীরা মিডিয়ায় নিজেদের হাইলাইট করার জন্য অতিরঞ্জিতভাবে তাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১০:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলায় আহত সারজিসসহ অনেকে

আপডেট সময় ১০:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে দলটির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও এনসিপি নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় রাত পৌনে ৮টায় হবিগঞ্জে অবস্থানরত এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে আমরা যখন পরবর্তী নির্ধারিত কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজারের দিকে রওনা হই, ঠিক সেই সময় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল সন্ত্রাসী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। হামলাকারীরা আমাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গাড়িচালক থেকে শুরু করে আমাদের মিডিয়া টিমের সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই ন্যাক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে যারা অস্ত্র, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক হামলাকারী, তাদের মদদদাতা এবং দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে থানার মোড় এলাকায় তাদের বহরের ওপর হামলা হয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম একটি ব্যাংকে অবস্থান নেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। এই এলাকায় বাইরে থেকে এসে কিছু লোক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। এর জবাবে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া দেয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেন।

রিংগন আরও বলেন, উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শান্তিপূর্ণ শহরের পরিবেশ নষ্টের দায় যারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তারাই বহন করবে। এনসিপির নেতাকর্মীরা মিডিয়ায় নিজেদের হাইলাইট করার জন্য অতিরঞ্জিতভাবে তাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।