ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
হবিগঞ্জে এনসিপি-ছাত্রদল সংঘর্ষ, পাটওয়ারী-সারজিসকে অবরুদ্ধ ফেঞ্চুগঞ্জের সেই স্কুলশিক্ষিকার পাশে ডা. মাহমুদা মিতু রাজধানীতে দেয়াল ধসে প্রাণ গেল দুইজনের, আহত অন্তত ৬ উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে এখনও বঞ্চিত মাধবপুরের বাঘাসুরা ইউনিয়ন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন লেস্টারের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য সামার বাংলাদেশী ফেস্টিভ্যাল আয়োজন অবশেষে ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল বাড়ল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সম্মানি ভাতা সিলেট মহানগরীতে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯২ ফেঞ্চুগঞ্জে ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, সেই শিক্ষিকার পাশে সহকর্মীরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন সিলেট, বালিকায় রংপুর

বর্ষায় কাদার সাগরে ডুবে যায় গ্রামের রাস্তা, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে এখনও বঞ্চিত মাধবপুরের বাঘাসুরা ইউনিয়ন

নিজস্ব সংবাদ :

‎সোহাগ মিয়া, মাধবপুর প্রতিনিধিঃ ‎পুরাইকলা, শিবজয়নগর, ধিতপুরাসহ একাধিক গ্রামের সড়কে নেই উন্নয়নের ছোঁয়া। শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের অবসানে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের।

‎দেশজুড়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রার নানা চিত্র চোখে পড়লেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১১নং বাঘাসুরা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের ভাগ্যে এখনো জোটেনি একটি টেকসই ও চলাচল উপযোগী রাস্তা।

‎বছরের পর বছর ধরে উন্নয়নের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে পুরাইকলা, শিবজয়নগর, ধিতপুরাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়কে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকার রাস্তাগুলো পাকা করার জন্য সংসদ সদস্যের উন্নয়ন বরাদ্দ কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে এবং জনসাধারণের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

‎বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কাদাময় রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, চাকরিজীবী এবং অসুস্থ রোগীদের চলাচল হয়ে ওঠে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় ভোগান্তি আরও বাড়ে।

‎পুরাইকলা গ্রামের বাসিন্দা এখলাছুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাস্তার দুর্ভোগে ভুগছি। আজও সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলা তো দূরের কথা, মানুষের হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়ে।”

‎শিবজয়নগর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “আমাদের গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু বর্ষাকালে রাস্তা কাদায় ভরে যাওয়ায় শিশুদের স্কুলে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।”

‎বরতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, “শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে যেমন কষ্ট হয়, তেমনি আমাদেরও প্রতিদিন এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়।”

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতেও এসব এলাকা উন্নয়নের দিক থেকে অবহেলিত ছিল। সময়ের পরিবর্তন হলেও সেই চিত্রের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে।



‎এলাকাবাসীর প্রশ্ন, “এই গ্রামগুলোতে কি মানুষ বসবাস করে না? যদি মানুষই বসবাস করে, তাহলে বছরের পর বছর কেন এমন অবহেলা?”

‎তারা হবিগঞ্জ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দ্রুত রাস্তাগুলো পাকা করা হলে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ হাজারো বাসিন্দার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় এই অঞ্চলের মানুষকে একই দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে হবে।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উন্নয়নের ধারায় বাঘাসুরা ইউনিয়নের অবহেলিত গ্রামগুলোও অগ্রাধিকার পাবে এবং দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৩:৫৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
১৫ বার পড়া হয়েছে

বর্ষায় কাদার সাগরে ডুবে যায় গ্রামের রাস্তা, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে এখনও বঞ্চিত মাধবপুরের বাঘাসুরা ইউনিয়ন

আপডেট সময় ০৩:৫৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

‎সোহাগ মিয়া, মাধবপুর প্রতিনিধিঃ ‎পুরাইকলা, শিবজয়নগর, ধিতপুরাসহ একাধিক গ্রামের সড়কে নেই উন্নয়নের ছোঁয়া। শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের অবসানে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের।

‎দেশজুড়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রার নানা চিত্র চোখে পড়লেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১১নং বাঘাসুরা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের ভাগ্যে এখনো জোটেনি একটি টেকসই ও চলাচল উপযোগী রাস্তা।

‎বছরের পর বছর ধরে উন্নয়নের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে পুরাইকলা, শিবজয়নগর, ধিতপুরাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়কে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকার রাস্তাগুলো পাকা করার জন্য সংসদ সদস্যের উন্নয়ন বরাদ্দ কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে এবং জনসাধারণের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

‎বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কাদাময় রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, চাকরিজীবী এবং অসুস্থ রোগীদের চলাচল হয়ে ওঠে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় ভোগান্তি আরও বাড়ে।

‎পুরাইকলা গ্রামের বাসিন্দা এখলাছুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাস্তার দুর্ভোগে ভুগছি। আজও সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলা তো দূরের কথা, মানুষের হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়ে।”

‎শিবজয়নগর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “আমাদের গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু বর্ষাকালে রাস্তা কাদায় ভরে যাওয়ায় শিশুদের স্কুলে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।”

‎বরতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, “শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে যেমন কষ্ট হয়, তেমনি আমাদেরও প্রতিদিন এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়।”

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতেও এসব এলাকা উন্নয়নের দিক থেকে অবহেলিত ছিল। সময়ের পরিবর্তন হলেও সেই চিত্রের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে।



‎এলাকাবাসীর প্রশ্ন, “এই গ্রামগুলোতে কি মানুষ বসবাস করে না? যদি মানুষই বসবাস করে, তাহলে বছরের পর বছর কেন এমন অবহেলা?”

‎তারা হবিগঞ্জ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দ্রুত রাস্তাগুলো পাকা করা হলে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ হাজারো বাসিন্দার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় এই অঞ্চলের মানুষকে একই দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে হবে।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উন্নয়নের ধারায় বাঘাসুরা ইউনিয়নের অবহেলিত গ্রামগুলোও অগ্রাধিকার পাবে এবং দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে।