ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত পরীক্ষার্থীদের বড় অংশ দুর্ভোগে পড়েনি: ড. মাহ্‌দী আমিন ‘ফার্মের মুরগি’ বিতর্কে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে হাসনাতের বিস্ফোরক মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন শিক্ষামন্ত্রী সুন্দরবনে ২৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ ইয়েমেনে হামলা করতে সৌদিকে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প: অ্যাক্সিওস পদার্থ বিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী দেশে ফিরেই বীরের সংবর্ধনা পেল নরওয়ে দল ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার রডরি মর্গানের ভাস্কর্য কার্ডিফে উন্মোচন শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা আগে, পরীক্ষা পরে: পাটওয়ারী

পরীক্ষার্থীদের বড় অংশ দুর্ভোগে পড়েনি: ড. মাহ্‌দী আমিন

নিজস্ব সংবাদ :

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের বড় অংশ কোনো ধরনের বন্যা, জলাবদ্ধতার বা দুর্ভোগে পড়েনি। তবে কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাতে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সরকারের অবস্থানসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এ কথা বলেন। নিচে ড. মাহ্‌দী আমিনের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শ

দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ চলমান রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে কেন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও যথেষ্ট ভেবেছে।

পারিপার্শ্বিক সব পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে, বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানা গেছে, দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা একটি দায়বদ্ধতা। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয় সেটি যেমন সরকারের লক্ষ্য, ঠিক তেমনি তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করাও দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার।

এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। আজ সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

সর্বসম্মত মতামত এসেছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের সকল বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তবে একইসাথে সীমিতসংখ্যক হলেও, যেকোনো শিক্ষার্থীর ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২,৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি- এই পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা আয়োজনে অনুকূল পরিবেশ থাকায়, বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সামনের দিনগুলোতেও বিরূপ আবহাওয়ার জন্য একদিকে দেশজুড়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীবান্ধব যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন।

যদি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের কোথাও কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়ার তথ্য এসেছে। উক্ত প্রশ্নের জন্য সবাইকে ফুল মার্কস দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, সেটি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন।

গতকাল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে, মূলত এই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়ে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১২:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

পরীক্ষার্থীদের বড় অংশ দুর্ভোগে পড়েনি: ড. মাহ্‌দী আমিন

আপডেট সময় ১২:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের বড় অংশ কোনো ধরনের বন্যা, জলাবদ্ধতার বা দুর্ভোগে পড়েনি। তবে কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাতে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সরকারের অবস্থানসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এ কথা বলেন। নিচে ড. মাহ্‌দী আমিনের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শ

দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ চলমান রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে কেন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও যথেষ্ট ভেবেছে।

পারিপার্শ্বিক সব পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে, বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানা গেছে, দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা একটি দায়বদ্ধতা। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয় সেটি যেমন সরকারের লক্ষ্য, ঠিক তেমনি তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করাও দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার।

এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। আজ সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

সর্বসম্মত মতামত এসেছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের সকল বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তবে একইসাথে সীমিতসংখ্যক হলেও, যেকোনো শিক্ষার্থীর ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২,৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি- এই পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা আয়োজনে অনুকূল পরিবেশ থাকায়, বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সামনের দিনগুলোতেও বিরূপ আবহাওয়ার জন্য একদিকে দেশজুড়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীবান্ধব যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন।

যদি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের কোথাও কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়ার তথ্য এসেছে। উক্ত প্রশ্নের জন্য সবাইকে ফুল মার্কস দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, সেটি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন।

গতকাল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে, মূলত এই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়ে।