ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের সামনে যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাদের অবস্থান

নিজস্ব সংবাদ :

জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি অভিযোগে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন পদবঞ্চিত নেতারা। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী অংশ নেন।

প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জেল-জুলুম, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী অনেক নেতা নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাননি। তাদের পরিবর্তে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, কমিটিতে ত্যাগ ও অবদানের মূল্যায়ন না করে ‘মাইম্যান’ দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে পদবঞ্চিতদের যথাযথ মূল্যায়ন না করলে যুবদল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো হয়। এতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

পদবঞ্চিত নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যুবদলই আগামী দিনের বিএনপির মূলধারার নেতৃত্ব দেবে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে বিএনপি আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।’

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ন কবির বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। অন্যদের তুলনায় আমাদের ত্যাগ কোনো অংশে কম নয়। কমিটিতে আমাদের স্থান না দিয়ে অবিচার করা হয়েছে। আমরা হাইকমান্ডের কাছে সুবিচার চাই।’

ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি শীর্ষ নেতাদের পকেট কমিটি। এত নির্যাতনের পরও যদি সংগঠন আমাদের মূল্যায়ন না করে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

কর্মসূচিতে যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৮:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
১৭ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের সামনে যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাদের অবস্থান

আপডেট সময় ০৮:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি অভিযোগে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন পদবঞ্চিত নেতারা। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী অংশ নেন।

প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জেল-জুলুম, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী অনেক নেতা নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাননি। তাদের পরিবর্তে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, কমিটিতে ত্যাগ ও অবদানের মূল্যায়ন না করে ‘মাইম্যান’ দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে পদবঞ্চিতদের যথাযথ মূল্যায়ন না করলে যুবদল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো হয়। এতে আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

পদবঞ্চিত নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যুবদলই আগামী দিনের বিএনপির মূলধারার নেতৃত্ব দেবে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে বিএনপি আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।’

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ন কবির বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমরা রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। অন্যদের তুলনায় আমাদের ত্যাগ কোনো অংশে কম নয়। কমিটিতে আমাদের স্থান না দিয়ে অবিচার করা হয়েছে। আমরা হাইকমান্ডের কাছে সুবিচার চাই।’

ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি শীর্ষ নেতাদের পকেট কমিটি। এত নির্যাতনের পরও যদি সংগঠন আমাদের মূল্যায়ন না করে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

কর্মসূচিতে যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।