এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনা দলে বিস্ময়বালক ‘কিকি’ রামোস
ফুটবলবিশ্বে প্রতিদিন কত শত গল্প তৈরি হয়। তবে কিছু গল্প ছাপিয়ে যায় চেনা সব সীমানা। এমনই এক আবেগঘন গল্পের জন্ম দিয়েছেন তরুণ ফুটবলার স্টিফেন ওস্কার রামোস, ফুটবল দুনিয়ায় যিনি ‘কিকি’ রামোস নামে পরিচিত।
২০১০ সালের হাইতির বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফেরা এই কিশোর আজ আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে গোল করে ইতিহাস গড়েছেন। ২০০৯ সালে হাইতির পোর্ট অব প্রিন্সে জন্ম নেওয়া কিকি রামোসের জীবনের শুরুটা ছিল ভীষণ কঠিন। মাত্র কয়েক মাস বয়সেই তাকে একটি এতিমখানায় ঠাঁই নিতে হয়।
২০১০ সালে হাইতিতে যখন প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প আঘাত হানে, তখন অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এই শিশু। এরপর এক আর্জেন্টাইন দম্পতি তাকে দত্তক নেন । মাত্র ৯ মাস বয়সে তিনি আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে চলে আসেন। সেখানেই এক নতুন পরিবার বড় হতে থাকেন তিনি।
আর্জেন্টিনার অন্যতম বিখ্যাত ক্লাব ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন এই উইঙ্গার। ২০২৬ মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত খেলে নজর কাড়েন অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের কোচ ডিয়েগো প্লাসেন্তের।
সম্প্রতি ইকুয়েডরের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তার অভিষেক হয়। অভিষেক ম্যাচেই দলকে ২-১ ব্যবধানে জেতাতে একটি দুর্দান্ত গোল করেন কিকি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই ডাক পাওয়া নিয়ে কিছু উগ্র ব্যবহারকারী বর্ণবাদী মন্তব্য করলেও, কিকি রামোস নিজের দেশ ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে সব বিতর্ক উড়িয়ে দিয়েছেন।
নিখুঁত আর্জেন্টাইন উচ্চারণে স্প্যানিশ বলা এই তরুণ নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনায় আসার পর থেকে কখনো কোনো বৈষম্যের শিকার হইনি। নিজেকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা বলেও মনে করিনি। যারা বলেন আর্জেন্টিনা একটি বর্ণবাদী দেশ, তারা কেবল বলার জন্যই এটি বলেন। আমি নিজেকে পুরোপুরি একজন আর্জেন্টাইন মনে করি। এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি দেশ।’
এই অভিষেকের মাধ্যমে তিনি শত বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় এবং যুব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে ১৯৮২ সালে সর্বশেষ কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় হিসেবে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে খেলেছিলেন গোলরক্ষক হেক্টর বালি ।


















