ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদল: নাসির উদ্দিন এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনা দলে বিস্ময়বালক ‘কিকি’ রামোস অভিষেক শর্মার ব্যাটিং তাণ্ডব, করলেন ৯১ বলে ২৩৩ সেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুকলেসুরের পাশে দাঁড়াবেন খায়রুল বাসার জুলাইয়ে এলো ৩৫ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স প্রধানমন্ত্রীর ফটোগ্রাফারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ খাম্বা থাকলেও এখন বিদ্যুৎ পাওয়া যায়না: সিলেটে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী যেকোন সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ চাইলে বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল করতে হবে’ রোগীকে ভ্যাকসিন না দেওয়ায় কর্মীকে বরখাস্তের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ চাইলে বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল করতে হবে’

নিজস্ব সংবাদ :

ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ করতে হলে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার।

তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে একদিকে জনগণকে সকল ক্ষমতার মালিক বলা হলেও অন্যদিকে সংবিধানকেই সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে খর্ব করে।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আয়োজিত ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, একাত্তর নিয়ে কোনো আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই। একাত্তরের মাধ্যমেই বাঙালি জনগোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হলে ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বিবেচনা নয়, বরং বাতিল করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো এত বড় ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। এটি হঠাৎ ঘটেনি, এর পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া কাজ করেছে।

রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, সেক্যুলার ও দক্ষিণপন্থি ধারার মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের সেতুবন্ধন তৈরি না হলে একটি টেকসই রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে না। পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো ও প্রচলিত ধারণা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার চিন্তাকেও তিনি ভুল বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার আমলের সংবিধান বহাল রেখে প্রকৃত অর্থে সরকার পরিচালনা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, সংবিধানকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবৈধ বলা হয়, তাহলে একই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারকেও অবৈধ বলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও অর্জনের চেয়ে ব্যর্থতার আলোচনা বেশি হচ্ছে। শেখ হাসিনার পলায়নের পর অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা জাতীয় অনৈক্য সৃষ্টি করেছে, ব্যর্থতার সিংহভাগ দায় তাদেরই নিতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৮:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ চাইলে বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল করতে হবে’

আপডেট সময় ০৮:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ করতে হলে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার।

তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে একদিকে জনগণকে সকল ক্ষমতার মালিক বলা হলেও অন্যদিকে সংবিধানকেই সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে খর্ব করে।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আয়োজিত ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, একাত্তর নিয়ে কোনো আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই। একাত্তরের মাধ্যমেই বাঙালি জনগোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ঘটাতে হলে ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বিবেচনা নয়, বরং বাতিল করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো এত বড় ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। এটি হঠাৎ ঘটেনি, এর পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া কাজ করেছে।

রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, সেক্যুলার ও দক্ষিণপন্থি ধারার মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যের সেতুবন্ধন তৈরি না হলে একটি টেকসই রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে না। পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো ও প্রচলিত ধারণা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার চিন্তাকেও তিনি ভুল বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার আমলের সংবিধান বহাল রেখে প্রকৃত অর্থে সরকার পরিচালনা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, সংবিধানকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবৈধ বলা হয়, তাহলে একই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারকেও অবৈধ বলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও অর্জনের চেয়ে ব্যর্থতার আলোচনা বেশি হচ্ছে। শেখ হাসিনার পলায়নের পর অবদান নিয়ে বিতর্ক তুলে যারা জাতীয় অনৈক্য সৃষ্টি করেছে, ব্যর্থতার সিংহভাগ দায় তাদেরই নিতে হবে।