দেশজুড়ে ৫ মাসে ধর্ষণের শিকার ১১৮ শিশু
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিশুদের প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছে শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ’।
সংগঠনটি বলছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা দেশের শিশু নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।একইসঙ্গে এসব ঘটনায় রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে তারা।
রবিবার (২৪ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুদের ওপর চলমান বর্বরতা একটি সভ্য সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক এবং এটি জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রামিসা হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে শিশুদের জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজ— কোথাও পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও ৪৬ শিশু। ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণে ব্যর্থ হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে অন্তত ১৭ শিশু।
কোয়ালিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার মুরাদনগরে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ, ভোলার দৌলতখানে ১২ বছরের শিশুকে গণধর্ষণ এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ১২ বছরের শিশু ইমনের নির্মম মৃত্যু দেশের পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে।
সংগঠনটি মনে করছে, শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, আইন প্রয়োগে দুর্বলতা এবং সামগ্রিক জবাবদিহিতার সংকটের কারণে শিশুরা আজ ঘরে-বাইরে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
শুধু আইন প্রণয়ন করলে হবে না, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র— সব পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেছে কোয়ালিশন। এর মধ্যে রয়েছে— শিশুদের প্রতি যে কোনো সহিংসতার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা, পরিবারে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি সক্রিয় রাখা।
এছাড়া শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পাঠ্যসূচিতে শিশু অধিকার ও আত্মরক্ষামূলক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং জরুরি হেল্পলাইন ১০৯৮ ও ৯৯৯ সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করার দাবিও জানানো হয়।




















