ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি হামের টিকা কভারেজ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :

 

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি টিকা কভারেজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় এবং জনসচেতনতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম প্রতিরোধে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদের ছুটি পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। যারা এখনো টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের পর কোনো ধরনের টিকা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন এমআর (হাম-রুবেলা)-এর কোনো টিকা কার্যক্রম গ্রহণ করেনি।”

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘দেশে প্যান্ডেমিক মোকাবিলা করার জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ ছিল না, নিওনেটাল ভেন্টিলেটর ছিল না, এমনকি বাচ্চাদের নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। মার্চের শেষ দিকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে যাওয়ার পর আমরা এই বিষয়ে পূর্ণ নজরদারি শুরু করি। তখন জানতে পারি আমাদের টিকা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ও সুপরামর্শে আমরা ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দ্বারস্থ হই। আল্লাহর রহমতে তারা দ্রুত আমাদের পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ করেছে এবং বর্তমানে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে।’

চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, গত ৫ এপ্রিল ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে, যা এখনও চলমান। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সেজন্য সিভিল সার্জনদের এলাকায় এলাকায় মার্কিং করে টিকাদান সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও চিকিৎসকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা বিগত দিনে যেভাবে টেন্ডার ও আউটসোর্সিংয়ে দুর্নীতি করেছে, তাতে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। টেন্ডারের কারণে ক্যান্সার হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টরকে কুপানো হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জাহিদ সাহেবকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সর্বশেষ শরীয়তপুরে ডাক্তারকে আঘাত করা হয়েছে। এই মহলটি আমাদের চিকিৎসকদের টার্গেট করছে।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘টিকা কার্যক্রম আমাদের যেকোনো মূল্যে চলমান রাখতে হবে। কোনোভাবেই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) দুর্বল করা যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক বলেন, ‘কোভিড কিংবা হাম—দেশের সব সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসকরা জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। কিন্তু ইদানীং দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর যে হামলা হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৭:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৯ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি হামের টিকা কভারেজ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

 

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ শতাংশ বেশি টিকা কভারেজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় এবং জনসচেতনতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম প্রতিরোধে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ঈদের ছুটি পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। যারা এখনো টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের পর কোনো ধরনের টিকা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন এমআর (হাম-রুবেলা)-এর কোনো টিকা কার্যক্রম গ্রহণ করেনি।”

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘দেশে প্যান্ডেমিক মোকাবিলা করার জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ ছিল না, নিওনেটাল ভেন্টিলেটর ছিল না, এমনকি বাচ্চাদের নিউমোনিয়ার চিকিৎসার জন্য কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। মার্চের শেষ দিকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে যাওয়ার পর আমরা এই বিষয়ে পূর্ণ নজরদারি শুরু করি। তখন জানতে পারি আমাদের টিকা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। পরবর্তীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ও সুপরামর্শে আমরা ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দ্বারস্থ হই। আল্লাহর রহমতে তারা দ্রুত আমাদের পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ করেছে এবং বর্তমানে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে।’

চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, গত ৫ এপ্রিল ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে, যা এখনও চলমান। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সেজন্য সিভিল সার্জনদের এলাকায় এলাকায় মার্কিং করে টিকাদান সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও চিকিৎসকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা বিগত দিনে যেভাবে টেন্ডার ও আউটসোর্সিংয়ে দুর্নীতি করেছে, তাতে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। টেন্ডারের কারণে ক্যান্সার হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টরকে কুপানো হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জাহিদ সাহেবকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সর্বশেষ শরীয়তপুরে ডাক্তারকে আঘাত করা হয়েছে। এই মহলটি আমাদের চিকিৎসকদের টার্গেট করছে।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘টিকা কার্যক্রম আমাদের যেকোনো মূল্যে চলমান রাখতে হবে। কোনোভাবেই সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) দুর্বল করা যাবে না।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক বলেন, ‘কোভিড কিংবা হাম—দেশের সব সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসকরা জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। কিন্তু ইদানীং দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের ওপর যে হামলা হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।’