ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বাংলাসহ ৩৪ ভাষায় প্রচার হবে হজের খুতবার অনুবাদ দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন মির্জা আব্বাস, আগের চেয়ে সুস্থ আছেন ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে হত্যা, আসামির স্বীকারোক্তি পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল, মুক্তিতে নেই বাধা ৭ বছরের মেয়ে যাদের কাছে নিরাপদ নয় তারা নরপিশাচ: আহমাদুল্লাহ ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল’ পদ্মার পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হচ্ছে জুলাই মাসেই: পানি সম্পদ মন্ত্রী জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

নিজস্ব সংবাদ :

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

 

সিলেট টেস্টের শেষ দিন ৯৮ তম ওভারে তাইজুলের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ওয়াইড লং অনে তানজিদকে ক্যাচ দেন খুররম শাহজাদ। তার আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে ৩৫৮ রানে অলআউট হলো পাকিস্তান। বাংলাদেশ জিতল ৭৮ রানে।

দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ। টানা চার টেস্টও জিতল পাকিস্তানের বিপক্ষে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো দলের বিপক্ষে টানা এত ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

মিরপুর টেস্ট জেতার পর সিলেটও দাপুটে পারফরম্যান্স ধরে রাখল বাংলাদেশ দল। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। তাতেই হয়েছে ইতিহাস। ঘরের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে এবারই প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ।

বুধবার (২০ মে) সিলেট টেস্টের পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের অষ্টম উইকেটে পঞ্চাশের বেশি রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান ও সাজিদ। তখন জয়ের স্বপ্নও দেখছিল সফরকারীরা। সেই জুটি ভাঙেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

৪৩৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৭ রান করেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র তিন উইকেট। অন্যদিকে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২০ রান।

পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মিদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। নাহিদ রানার করা বলে স্লিপে ক্যাচও তুলে দিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু হাতের ক্যাচ মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এই সুযোগ মিস করার পর বাংলাদেশিদের ভোগাতে থাকেন রিজওয়ান ও সাজিদ খান। এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে জয়ের স্বপ্নও দেখতে থাকে পাকিস্তানিরা। কিন্তু সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে আউট করার মাধ্যমে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান করেন সাজিদ।

এদিকে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন পাকিস্তানি উইরেটকিপার ব্যাটার রিজওয়ান। কিন্তু তাকে শতক পূর্ণ করতে দেননি শরিফুল ইসলাম। মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৯৪ রান করেন রিজওয়ান। ১৬৬ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি ১০টি চারে সাজানো। এছাড়া শূন্য রানে আউট হন খুররাম শেহজাদ। আর শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ আব্বাস।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছয়টি নেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রানের খরচায় ছয়টি উইকেট পেয়েছেন তিনি। এছাড়া দুটি উইকেট নেন নাহিদ রানা। আর একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

সিলেট টেস্টের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের সেঞ্চুরি নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ২৩২ রানে থামে পাকিস্তান। ফলে ৪৬ রানে লিড পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান করলে টার্গেট দাঁড়ায় ৪৩৭ রানে। কিন্তু পাকিস্তান অলআউট হয়েছে ৩৫৮ রানেই।

প্রায় বছর দুয়েক আগে পাকিস্তানের মাটিতে তাদেরকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে পাকবাহিনীদের ধবলধোলাই করলো টাইগাররা। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা পাঁচটি টেস্ট সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সবশেষ টানা চার টেস্টেই জয়ের দেখা পেলো টাইগাররা, যা এবারই প্রথম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০।
পাকিস্তান: ২৩২ ও ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ (রিজওয়ান ৯৪, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭; তাইজুল ৬/১২০, নাহিদ ২/৭১, মিরাজ ১/৬২)।
ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: লিটন দাস।
সিরিজসেরা: মুশফিকুর রহিম।
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
২০ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৬:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

 

সিলেট টেস্টের শেষ দিন ৯৮ তম ওভারে তাইজুলের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ওয়াইড লং অনে তানজিদকে ক্যাচ দেন খুররম শাহজাদ। তার আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে ৩৫৮ রানে অলআউট হলো পাকিস্তান। বাংলাদেশ জিতল ৭৮ রানে।

দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ। টানা চার টেস্টও জিতল পাকিস্তানের বিপক্ষে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো দলের বিপক্ষে টানা এত ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

মিরপুর টেস্ট জেতার পর সিলেটও দাপুটে পারফরম্যান্স ধরে রাখল বাংলাদেশ দল। দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। তাতেই হয়েছে ইতিহাস। ঘরের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে এবারই প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ।

বুধবার (২০ মে) সিলেট টেস্টের পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের অষ্টম উইকেটে পঞ্চাশের বেশি রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান ও সাজিদ। তখন জয়ের স্বপ্নও দেখছিল সফরকারীরা। সেই জুটি ভাঙেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

৪৩৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৭ রান করেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র তিন উইকেট। অন্যদিকে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২০ রান।

পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মিদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। নাহিদ রানার করা বলে স্লিপে ক্যাচও তুলে দিয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু হাতের ক্যাচ মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এই সুযোগ মিস করার পর বাংলাদেশিদের ভোগাতে থাকেন রিজওয়ান ও সাজিদ খান। এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে জয়ের স্বপ্নও দেখতে থাকে পাকিস্তানিরা। কিন্তু সেই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে আউট করার মাধ্যমে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান করেন সাজিদ।

এদিকে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন পাকিস্তানি উইরেটকিপার ব্যাটার রিজওয়ান। কিন্তু তাকে শতক পূর্ণ করতে দেননি শরিফুল ইসলাম। মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৯৪ রান করেন রিজওয়ান। ১৬৬ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি ১০টি চারে সাজানো। এছাড়া শূন্য রানে আউট হন খুররাম শেহজাদ। আর শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ আব্বাস।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ছয়টি নেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রানের খরচায় ছয়টি উইকেট পেয়েছেন তিনি। এছাড়া দুটি উইকেট নেন নাহিদ রানা। আর একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

সিলেট টেস্টের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের সেঞ্চুরি নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ২৩২ রানে থামে পাকিস্তান। ফলে ৪৬ রানে লিড পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান করলে টার্গেট দাঁড়ায় ৪৩৭ রানে। কিন্তু পাকিস্তান অলআউট হয়েছে ৩৫৮ রানেই।

প্রায় বছর দুয়েক আগে পাকিস্তানের মাটিতে তাদেরকে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে পাকবাহিনীদের ধবলধোলাই করলো টাইগাররা। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা পাঁচটি টেস্ট সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সবশেষ টানা চার টেস্টেই জয়ের দেখা পেলো টাইগাররা, যা এবারই প্রথম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০।
পাকিস্তান: ২৩২ ও ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ (রিজওয়ান ৯৪, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭; তাইজুল ৬/১২০, নাহিদ ২/৭১, মিরাজ ১/৬২)।
ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: লিটন দাস।
সিরিজসেরা: মুশফিকুর রহিম।
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।