সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল, মুক্তিতে নেই বাধা
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে দেওয়া ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় দায়ের করা দুই পৃথক হত্যা মামলায় তাকে এ জামিন দেওয়া হয়।
আজ বুধবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি পৃথক আবেদনের ওপর ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে খায়রুল হকের মুক্তিতে বর্তমানে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোতাহের হোসেন সাজু।
আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা শাজিয়া শারমিন।
এর আগে গত ১২ মে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খায়রুল হকের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। সেই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ।
গত বছরের (২০২৫ সালের) ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময়ে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে এ মামলা ছাড়াও আরও চারটি মামলা হয়।
এর মধ্যে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরে ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনের মামলা। একই বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এর আগে ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতিতে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর তিনি জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও জামিন পান।
এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন ২৮ এপ্রিল খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। তবে এর মধ্যে নিম্ন আদালতে আরও দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।




















