ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :

 

একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি কোনো করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সময়ে ভূমির শরিকানা ও জটিলতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বলেন, সময়ের পরিক্রমায় এক জমির মালিক এখন অনেকে। ফলে মালিকানা নিখুঁতভাবে রেকর্ডে রাখার ক্ষেত্রে ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। দেশের নাগরিকরা সাধারণত মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি ও জমা-খারিজের মতো শব্দগুলোর সঙ্গে পরিচিত এবং এসব কাজের জন্য আগে ভূমি অফিসে আসতে হতো। তবে প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ভূমি ব্যবস্থাপনা অনেক আধুনিক হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভূমি ব্যবস্থা যত বেশি ডিজিটাল হবে, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথ তত সহজ হবে। অনলাইন সুবিধার কারণে জনগণের দুর্ভোগ ও ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। তিন দিনব্যাপী চলমান এই মেলা নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন করবে।

তিনি জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমছে এবং এর অর্থনৈতিক মূল্য বাড়ছে। এর ফলে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা বাড়ছে, যা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় উন্নয়ন পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার ও নিখুঁত রেকর্ড সংরক্ষণ সময়ের বড় দাবি। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমি মন্ত্রণালয় নির্ভুল জরিপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেবা নিশ্চিতের কাজ করছে, যাতে জনগণকে অফিসে অফিসে ঘুরে হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হতে না হয়।

সরকারের ধারাবাহিকতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। দেশব্যাপী এই ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করল।

তিনি স্পষ্ট করেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের মানুষ এখন রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে মনোযোগ দিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৫:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
১৩ বার পড়া হয়েছে

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

 

একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি কোনো করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সময়ে ভূমির শরিকানা ও জটিলতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বলেন, সময়ের পরিক্রমায় এক জমির মালিক এখন অনেকে। ফলে মালিকানা নিখুঁতভাবে রেকর্ডে রাখার ক্ষেত্রে ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। দেশের নাগরিকরা সাধারণত মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি ও জমা-খারিজের মতো শব্দগুলোর সঙ্গে পরিচিত এবং এসব কাজের জন্য আগে ভূমি অফিসে আসতে হতো। তবে প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ভূমি ব্যবস্থাপনা অনেক আধুনিক হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভূমি ব্যবস্থা যত বেশি ডিজিটাল হবে, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথ তত সহজ হবে। অনলাইন সুবিধার কারণে জনগণের দুর্ভোগ ও ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। তিন দিনব্যাপী চলমান এই মেলা নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন করবে।

তিনি জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমছে এবং এর অর্থনৈতিক মূল্য বাড়ছে। এর ফলে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা বাড়ছে, যা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় উন্নয়ন পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার ও নিখুঁত রেকর্ড সংরক্ষণ সময়ের বড় দাবি। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমি মন্ত্রণালয় নির্ভুল জরিপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেবা নিশ্চিতের কাজ করছে, যাতে জনগণকে অফিসে অফিসে ঘুরে হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হতে না হয়।

সরকারের ধারাবাহিকতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। দেশব্যাপী এই ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া আরও একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করল।

তিনি স্পষ্ট করেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের মানুষ এখন রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে মনোযোগ দিয়েছে।