সিলেটের ছয় আসনে যে ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীকারী ৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের এক-অষ্টমাংশের (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) কম ভোট পেলে তাঁর জামানত ফেরতযোগ্য থাকে না। সেই হিসেবে সিলেটের ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে সিলেট-১ আসনে ছয়জন, সিলেট-২ আসনে তিনজন, সিলেট-৩ আসনে চারজন, সিলেট-৪ আসনে তিনজন, সিলেট-৫ আসনে একজন এবং সিলেট-৬ আসনে তিনজন।
সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৯। আসনটিতে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৪০ হাজার ৬৯২ ভোট। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী এর নিচে ভোট পেয়ে তাঁদের জামানত হারিয়েছেন। প্রার্থীরা হলেন—গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (৩১৪ ভোট), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (১,১৩৪ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান (২,৭০১ ভোট) বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৯০৮ ভোট) ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়া (২৩৯ ভোট) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসাবাদী) সঞ্জয় কান্ত দাস (৮০১ ভোট)।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে মোট ভোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০৭। এ হিসেবে জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ন্যূনতম ২০ হাজার ৫৬৩ ভোট। তিনজন প্রার্থী ২০ হাজার ৫৬৩ এর নিচে ভোট পেয়েছেন। তাঁরা হলেন—জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (১,৪২০ ভোট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (১,৪০৮ ভোট) এবং গণফোরামের মো. মজিবুল হক (৬৩৭ ভোট)।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেন্সুগঞ্জ) আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৬৪৭। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ২৫ হাজার ৫৮১ ভোট। এ হিসেবে চারজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী মইনুল বাকর (২৯৭ ভোট) স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (৪,১৯৯ ভোট) জাতীয় প্রার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (২,৬৩০ ভোট) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী (১,৩৯১ ভোট)।
সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর)আসনে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৫৬৫। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩৩ হাজার ৮২১ ভোট। সেই হিসেবে এ আসনে তিনজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (৫৬১ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাইদ আহমদ (২,৭১৪ ভোট) এবং জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান (১,৯৬৬ ভোট)
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট)আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৫১৮। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ভোট ছিল ২৬ হাজার ৪৩৯ ভোট। এ আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তিনজনই জামানত বাজেয়াপ্তের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন (৩৭২ ভোট) জামানত হারিয়েছেন।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে মোট ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৬। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ৩০ হাজার ৪৬২ ভোট। এর নিচে ভোট পেয়ে তিনজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান (১,৩৮৬ ভোট) জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুল নূর (১,১৭০ ভোট) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম (২৩,৮৪৬ ভোট)।




















