ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ চার দশকের নিজ দুর্গ হারিয়ে হতাশ জি এম কাদের

নিজস্ব সংবাদ :

প্রায় চার দশক ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর সদর-৩ আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে এই আসন হাতছাড়া হয়ে গেছে দলটির। জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট।

আর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ভোট, ফলে তিনি তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন।
এই ফলাফল রংপুরের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৮৬ সাল থেকে আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

তার মৃত্যুর পর তার ছেলে সাদ এরশাদ এখানে নির্বাচিত হন। একবার উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন রওশন এরশাদ। ফলে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ‘এরশাদ পরিবারের দুর্গ’ হিসেবেই পরিচিত ছিল। ২০০১ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জি এম কাদের।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালেও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটি হারালেও সদর-৩ আসনটি জাতীয় পার্টি শক্তভাবে ধরে রেখেছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই অবস্থান পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ভোটে স্থানীয় ইস্যু, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বড় ভূমিকা রেখেছে। জামায়াতের প্রার্থী মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালান এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখেন।

বিপরীতে নির্বাচনের দিন জি এম কাদের কোনো ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে বের হননি। তিনি মিডিয়া এড়িয়ে নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। ফলে ভোটের মাঠে তার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে।

ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন একই রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে থাকার কারণে আসনটিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও নতুন নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে আসনটিতে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।

লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধান শুধু একটি পরাজয় নয়, বরং জাতীয় পার্টির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে রংপুর, যা দলটির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে এমন ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৯:৩২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
১৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ চার দশকের নিজ দুর্গ হারিয়ে হতাশ জি এম কাদের

আপডেট সময় ০৯:৩২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রায় চার দশক ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর সদর-৩ আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে এই আসন হাতছাড়া হয়ে গেছে দলটির। জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট।

আর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ভোট, ফলে তিনি তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন।
এই ফলাফল রংপুরের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৮৬ সাল থেকে আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

তার মৃত্যুর পর তার ছেলে সাদ এরশাদ এখানে নির্বাচিত হন। একবার উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন রওশন এরশাদ। ফলে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ‘এরশাদ পরিবারের দুর্গ’ হিসেবেই পরিচিত ছিল। ২০০১ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জি এম কাদের।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালেও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটি হারালেও সদর-৩ আসনটি জাতীয় পার্টি শক্তভাবে ধরে রেখেছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই অবস্থান পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের ভোটে স্থানীয় ইস্যু, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বড় ভূমিকা রেখেছে। জামায়াতের প্রার্থী মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালান এবং ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখেন।

বিপরীতে নির্বাচনের দিন জি এম কাদের কোনো ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে বের হননি। তিনি মিডিয়া এড়িয়ে নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। ফলে ভোটের মাঠে তার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে।

ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন একই রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে থাকার কারণে আসনটিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও নতুন নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে আসনটিতে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।

লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধান শুধু একটি পরাজয় নয়, বরং জাতীয় পার্টির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে রংপুর, যা দলটির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে এমন ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।