ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
ট্রাম্পের বিরোধিতা উপেক্ষা করে পঞ্চমবার কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আল-সাঈদ ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের ভরাডুবি, সিনেট এখন ডেমোক্র্যাটদের কাতার বিমানবন্দরে উপচে পড়া ভিড়, বিদেশিদের দেশ ছাড়ার জল্পনা; আসলে কী ঘটেছিল? বড়দিনের জন্য চাওয়া হয়েছিল ২ কোটি টাকা অনুদান, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি সৌদি প্রবাসীদের জন্য জরুরি বার্তা সরকারের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার পৌর নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী শাহীন আওয়ামী সহিংসতার দায় জামায়াত আমির এড়াতে পারেন না: রাশেদ খাঁন বাংলাদেশে শ্রমিক আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করছে ভারত শাকিবের নায়িকা হচ্ছেন পাকিস্তানের কিনজা হাশমী

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আল-সাঈদ

নিজস্ব সংবাদ :

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আল-সাঈদ

চিকিৎসক ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আব্দুল আল-সায়েদ মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন।

মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আল-সায়েদের এই জয় দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরো শক্তিশালী করেছে।
বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কার্যালয়ে নিজের জয়ের ঘোষণা দেন আল-সায়েদ। তিনি জানান, ভোটাররা তাকে নিজেদের বাড়ি, গির্জা ও সিনাগগে স্বাগত জানিয়েছেন। গত দেড় বছর ধরে মিশিগানের বড় শহর থেকে ছোট জনপদ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি।

কঠিন সময়ে ভোটাররাই তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে আল-সায়েদের নাম ও ধর্মবিশ্বাস নিয়ে নানা ধরনের আক্রমণ করা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সিনেটে প্রবেশের সময় তাকে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলেও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প।

আল-সায়েদ বলেন, তার সমালোচকরা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মতো বাস্তব সমস্যা নিয়ে কথা না বলে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। কারণ, এসব সমস্যার সমাধান তাদের কাছে ছিল না।
এল-সায়েদ বলেন, ‘তারা এমন এক আমেরিকা চান, যেখানে অনেকের জায়গা হবে না। অথচ আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকা সবার জন্য যথেষ্ট বড়।’ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এলিসা স্লটকিনের কাছে মাত্র ০.৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে যান।
এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক আব্দুল আল-সায়েদ। বছরের শুরুতে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে দলের পছন্দের প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। নির্বাচনী প্রচারে আল-সায়েদ সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে কথা বলেন। পাশাপাশি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধেরও দাবি জানান।

এই নির্বাচনে দুই প্রার্থীই বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পিটার্স ২০১৫ সাল থেকে এই আসনে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রিপাবলিকানরা নির্বাচনটিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী রাজনীতির প্রতি ভোটারদের সমর্থন যাচাইয়ের লড়াই হিসেবে তুলে ধরে। আল-সায়েদ মনোনয়ন পাওয়ার পর ট্রাম্প তাকে ‘কমিউনিস্ট’ ও ‘জিহাদি’ বলে আক্রমণ করেন। এমনকি তাকে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও অভিযোগ করেন।

সব মিলিয়ে এই নির্বাচন ছিল একজন প্রগতিশীল প্রার্থীর জন্য বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে মিশিগানের মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে নতুন ধারার রাজনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব কেমন, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছিল এই লড়াইয়ে।

ইসরায়েলপন্থী লবি ‘আইপ্যাক’ তাদের সহযোগী সংগঠন ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সায়েদকে হারাতে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে। কোনো একটি নির্বাচনী লড়াইয়ে এটি রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচনে দুই দল মিলে বিজ্ঞাপনের পেছনে ২২ কোটি ডলারের বেশি খরচ করে।

বিজয়ী ভাষণে এল-সায়েদ বলেন, করের টাকা দেশের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। বর্ণবাদ, গণহত্যা ও যুদ্ধের পেছনে জনগণের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স শুরুতে ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন। তবে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য বিরোধের অবসান এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৭:৫১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আল-সাঈদ

আপডেট সময় ০৭:৫১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

চিকিৎসক ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আব্দুল আল-সায়েদ মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন।

মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আল-সায়েদের এই জয় দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরো শক্তিশালী করেছে।
বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কার্যালয়ে নিজের জয়ের ঘোষণা দেন আল-সায়েদ। তিনি জানান, ভোটাররা তাকে নিজেদের বাড়ি, গির্জা ও সিনাগগে স্বাগত জানিয়েছেন। গত দেড় বছর ধরে মিশিগানের বড় শহর থেকে ছোট জনপদ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি।

কঠিন সময়ে ভোটাররাই তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে আল-সায়েদের নাম ও ধর্মবিশ্বাস নিয়ে নানা ধরনের আক্রমণ করা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সিনেটে প্রবেশের সময় তাকে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলেও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প।

আল-সায়েদ বলেন, তার সমালোচকরা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মতো বাস্তব সমস্যা নিয়ে কথা না বলে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। কারণ, এসব সমস্যার সমাধান তাদের কাছে ছিল না।
এল-সায়েদ বলেন, ‘তারা এমন এক আমেরিকা চান, যেখানে অনেকের জায়গা হবে না। অথচ আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকা সবার জন্য যথেষ্ট বড়।’ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এলিসা স্লটকিনের কাছে মাত্র ০.৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে যান।
এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক আব্দুল আল-সায়েদ। বছরের শুরুতে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে দলের পছন্দের প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। নির্বাচনী প্রচারে আল-সায়েদ সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে কথা বলেন। পাশাপাশি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধেরও দাবি জানান।

এই নির্বাচনে দুই প্রার্থীই বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পিটার্স ২০১৫ সাল থেকে এই আসনে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রিপাবলিকানরা নির্বাচনটিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী রাজনীতির প্রতি ভোটারদের সমর্থন যাচাইয়ের লড়াই হিসেবে তুলে ধরে। আল-সায়েদ মনোনয়ন পাওয়ার পর ট্রাম্প তাকে ‘কমিউনিস্ট’ ও ‘জিহাদি’ বলে আক্রমণ করেন। এমনকি তাকে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও অভিযোগ করেন।

সব মিলিয়ে এই নির্বাচন ছিল একজন প্রগতিশীল প্রার্থীর জন্য বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে মিশিগানের মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে নতুন ধারার রাজনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব কেমন, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছিল এই লড়াইয়ে।

ইসরায়েলপন্থী লবি ‘আইপ্যাক’ তাদের সহযোগী সংগঠন ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সায়েদকে হারাতে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে। কোনো একটি নির্বাচনী লড়াইয়ে এটি রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচনে দুই দল মিলে বিজ্ঞাপনের পেছনে ২২ কোটি ডলারের বেশি খরচ করে।

বিজয়ী ভাষণে এল-সায়েদ বলেন, করের টাকা দেশের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। বর্ণবাদ, গণহত্যা ও যুদ্ধের পেছনে জনগণের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স শুরুতে ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন। তবে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য বিরোধের অবসান এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান।