সৌদি প্রবাসীদের জন্য জরুরি বার্তা সরকারের পক্ষ থেকে
রিমন হোসেন, সৌদি আরব: সৌদি আরবে কর্মরত প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা, অধিকার এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এই নির্দেশনায় প্রবাসীদের ভিসা যাচাই, নিয়োগচুক্তি, ইকামা, বেতন, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রবাসীদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে বৈধ পথে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং ভ্রমণের আগে নিজের সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সযতনে সংরক্ষণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশটিতে যাওয়ার আগে ভিসার ধরন ও চুক্তির শর্তাবলি নিখুঁতভাবে যাচাই করতে হবে। কোনোভাবেই ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজ করা যাবে না এবং বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে বিদেশযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত সময়ে ইকামা সংগ্রহ এবং আবশের ও কিওয়া অ্যাকাউন্ট সচল রাখা বাধ্যতামূলক। কর্মীদের বেতন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে এবং নিয়োগচুক্তির বাইরে কাজ বা অবৈধভাবে চাকরি পরিবর্তন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে হুন্ডি পুরোপুরি এড়িয়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরে অন্যের ব্যাগ বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনহীন কোনো ওষুধ বহন করা থেকেও প্রবাসীদের কড়াভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সৌদি আরবের স্থানীয় আইন, ট্রাফিক নিয়ম, ধর্মীয় রীতিনীতি ও সংস্কৃতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকার কড়া বার্তা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই না করা তথ্য বা সংবেদনশীল ছবি প্রকাশ এবং অনুমোদনহীন যেকোনো সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। জনসমাগমস্থলে শালীন আচরণের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমে খোলা জায়গায় কাজ করা থেকে বিরত থাকার নিয়মটি কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।
যেকোনো আইনি জটিলতা বা জরুরি প্রয়োজনে দালালদের শরণাপন্ন না হয়ে সরাসরি সরকারি কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। রিয়াদ, মক্কা বা মদিনার মতো অঞ্চলে যেকোনো জরুরি সেবার জন্য ৯১১, পুলিশের জন্য ৯৯৯, অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ৯৯৭ এবং শ্রমসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগে ১৯৯১১ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ সেবার টোল ফ্রি নম্বর ৮০০১০০০১২৫ ও প্রবাসবন্ধু কল সেন্টারের ১৬১৩৫ নম্বরের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।




















