ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব বাইন্যান্স থেকে বিশাল অঙ্কের ক্রিপ্টো চুরিতে উত্তর কোরিয়া জড়িত: এফবিআই মিরপুরে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন তাহসিফ সৌরির সঙ্গে থাকা সেই তরুণী চার দিনের রিমান্ডে দীর্ঘ ১০ বছর পর আইসিসির টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা হাইকোর্টে জামিন পেলেন জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান ডাক্তার বলেছে আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি ৪ নভেম্বর থেকে সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমবে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, অর্ধশতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা রাজধানীর শৃঙ্খলা ফেরাতে ৭ রুটে নামছে ৮৬১ বাস

ডাক্তার বলেছে আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

নিজস্ব সংবাদ :

ডাক্তার বলেছে আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

মস্তিষ্কে টিউমার, অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, এমনকি লাইফ সাপোর্টেও থাকতে হয়েছে তাকে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি।

ভারতের চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা একপর্যায়ে জানিয়েছিলেন, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন পূর্বাভাসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি অভিনেত্রী।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। প্রায় ১০ মাসের বিরতি কাটিয়ে সম্প্রতি ফিরেছেন শুটিংয়েও।

তার ভাষায়, নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো যেন দ্বিতীয় জন্মের মতো।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও কাজে ফেরার অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন তানিয়া বৃষ্টি। জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছেন। দীর্ঘ ১০ মাস পর আবার স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও হাসিখুশি সময় কাটাতে পারছেন।

অস্ত্রোপচারের পর নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে হয়েছে তাকে। মাথার ডান পাশের সমস্যার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়েও ঘুমাতে পারতেন না। ছিল প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যা। রেডিওথেরাপির কঠিন সময় পার করে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন এই অভিনেত্রী।
দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া।

এতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের টানাপড়েন নিয়ে নির্মিত নাটকটির গল্পে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তার চরিত্রটি।
দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে থাকায় কাজের পরিবেশকে ভীষণ মিস করছিলেন তানিয়া। সহকর্মীদের নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। তাই শুটিংয়ে ফেরাটা তার কাছে শুধু পেশাগত প্রত্যাবর্তন নয়, মানসিকভাবেও স্বস্তির। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।

তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কাজে ফেরার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। চিকিৎসকরা প্রথমে তাকে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে চাননি। কারণ, এখনো কেমোথেরাপির চিকিৎসা চলছে। এ অবস্থায় কাজের চাপ থেকে শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তানিয়া। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করে একটি নাটকে কাজ করার অনুমতি নেন। এখনো তার দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করে টিউমারের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা।

তানিয়ার অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয় তার। টানা চার দিন অসুস্থতা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে শুরু হয় প্রচণ্ড বমি। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরদিনই জানা যায়, মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে।

শুরুতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা থাকলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ে। ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক অনকোলজিস্টের কাছ থেকে আয়ু নিয়ে ভয়াবহ পূর্বাভাস শুনতে হয় তাকে। চিকিৎসক জানান, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন কথা শোনার পর মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খান অভিনেত্রী।

প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে ঢাকায় থাকতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তানিয়া। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তাতেও ছিল বিদায়ের সুর। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে পাশে মা ও বোনকে দেখে কিছুটা সাহস পান।

অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তানিয়া। বাবা না থাকায় রাত জেগে মেয়ের সেবা করেছেন মা। পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা ও ভালোবাসা তাকে কঠিন সময় পার করার শক্তি জুগিয়েছে। এ ছাড়া সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় আলমগীর এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৫:৪৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
১২ বার পড়া হয়েছে

ডাক্তার বলেছে আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

আপডেট সময় ০৫:৪৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

মস্তিষ্কে টিউমার, অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, এমনকি লাইফ সাপোর্টেও থাকতে হয়েছে তাকে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি।

ভারতের চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা একপর্যায়ে জানিয়েছিলেন, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন পূর্বাভাসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েননি অভিনেত্রী।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। প্রায় ১০ মাসের বিরতি কাটিয়ে সম্প্রতি ফিরেছেন শুটিংয়েও।

তার ভাষায়, নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো যেন দ্বিতীয় জন্মের মতো।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও কাজে ফেরার অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন তানিয়া বৃষ্টি। জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছেন। দীর্ঘ ১০ মাস পর আবার স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও হাসিখুশি সময় কাটাতে পারছেন।

অস্ত্রোপচারের পর নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে হয়েছে তাকে। মাথার ডান পাশের সমস্যার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়েও ঘুমাতে পারতেন না। ছিল প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যা। রেডিওথেরাপির কঠিন সময় পার করে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন এই অভিনেত্রী।
দীর্ঘ বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া।

এতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের টানাপড়েন নিয়ে নির্মিত নাটকটির গল্পে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তার চরিত্রটি।
দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে থাকায় কাজের পরিবেশকে ভীষণ মিস করছিলেন তানিয়া। সহকর্মীদের নিজের পরিবারের মতো মনে করেন তিনি। তাই শুটিংয়ে ফেরাটা তার কাছে শুধু পেশাগত প্রত্যাবর্তন নয়, মানসিকভাবেও স্বস্তির। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।

তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় কাজে ফেরার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। চিকিৎসকরা প্রথমে তাকে শুটিংয়ের অনুমতি দিতে চাননি। কারণ, এখনো কেমোথেরাপির চিকিৎসা চলছে। এ অবস্থায় কাজের চাপ থেকে শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তানিয়া। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করে একটি নাটকে কাজ করার অনুমতি নেন। এখনো তার দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করে টিউমারের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা।

তানিয়ার অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয় তার। টানা চার দিন অসুস্থতা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে শুরু হয় প্রচণ্ড বমি। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরদিনই জানা যায়, মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে।

শুরুতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা থাকলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ে। ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক অনকোলজিস্টের কাছ থেকে আয়ু নিয়ে ভয়াবহ পূর্বাভাস শুনতে হয় তাকে। চিকিৎসক জানান, তার আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। এমন কথা শোনার পর মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খান অভিনেত্রী।

প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে ঢাকায় থাকতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তানিয়া। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তাতেও ছিল বিদায়ের সুর। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। একপর্যায়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে পাশে মা ও বোনকে দেখে কিছুটা সাহস পান।

অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তানিয়া। বাবা না থাকায় রাত জেগে মেয়ের সেবা করেছেন মা। পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা ও ভালোবাসা তাকে কঠিন সময় পার করার শক্তি জুগিয়েছে। এ ছাড়া সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় আলমগীর এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তার খোঁজখবর নিয়েছেন।