ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোদি সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিলেন সিজেপি

নিজস্ব সংবাদ :

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিরোধী মত দমনে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দিল্লি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোদি সরকারের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন দীপকে।

তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি একজন স্বৈরাচারীতে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু তাঁর জরুরি অবস্থা জারি করার মতো সাহস নেই।’

সম্প্রতি সিজেপির কর্মী, বামপন্থি ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ ও আটকের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা চলছে। এসব ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দীপকে বলেন, ‘আপনারা যদি এ ধরনের মানুষদের আটক করতেই চান, তাহলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন। আর কতকাল আপনারা মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখবেন?’

দুই দিন আগে জাতীয় পতাকা নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে যাওয়ার পর সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।

এ ঘটনায় প্রশ্ন তুলে দীপকে বলেন, ‘জাতীয় পতাকা ওড়ানো কবে থেকে অপরাধ হয়ে গেল?’ তাঁর অভিযোগ, ব্রিটিশ শাসনামলের মতো আচরণ করছে মোদি ও অমিত শাহের পুলিশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নিজেদের দেশেই জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ টেনে দীপকে প্রশ্ন করেন, ‘নরেন্দ্র মোদির কাছে ঠিক কী কারণে জ্ঞানেশ কুমার জাতীয় পতাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন?’

আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তাঁরা নিজেদের প্রদেশে জাতীয় পতাকা ওড়াননি—এমন যুক্তিতে পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় আপত্তি তোলা হচ্ছে। দীপকের ভাষায়, ‘এই দেশ গান্ধীর আদর্শ এবং বাবা সাহেবের সংবিধান অনুযায়ী চলবে।’

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত করা এবং দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি। এরপরই দলটির প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৮:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

মোদি সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিলেন সিজেপি

আপডেট সময় ০৮:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিরোধী মত দমনে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দিল্লি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোদি সরকারের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন দীপকে।

তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি একজন স্বৈরাচারীতে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু তাঁর জরুরি অবস্থা জারি করার মতো সাহস নেই।’

সম্প্রতি সিজেপির কর্মী, বামপন্থি ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ ও আটকের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা চলছে। এসব ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দীপকে বলেন, ‘আপনারা যদি এ ধরনের মানুষদের আটক করতেই চান, তাহলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন। আর কতকাল আপনারা মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখবেন?’

দুই দিন আগে জাতীয় পতাকা নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে যাওয়ার পর সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।

এ ঘটনায় প্রশ্ন তুলে দীপকে বলেন, ‘জাতীয় পতাকা ওড়ানো কবে থেকে অপরাধ হয়ে গেল?’ তাঁর অভিযোগ, ব্রিটিশ শাসনামলের মতো আচরণ করছে মোদি ও অমিত শাহের পুলিশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নিজেদের দেশেই জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ টেনে দীপকে প্রশ্ন করেন, ‘নরেন্দ্র মোদির কাছে ঠিক কী কারণে জ্ঞানেশ কুমার জাতীয় পতাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন?’

আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, তাঁরা নিজেদের প্রদেশে জাতীয় পতাকা ওড়াননি—এমন যুক্তিতে পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় আপত্তি তোলা হচ্ছে। দীপকের ভাষায়, ‘এই দেশ গান্ধীর আদর্শ এবং বাবা সাহেবের সংবিধান অনুযায়ী চলবে।’

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত করা এবং দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি। এরপরই দলটির প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়।