ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজিপুরে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৬১৩ শ্রমিক ছাঁটাই

নিজস্ব সংবাদ :

গাজিপুরে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৬১৩ শ্রমিক ছাঁটাই

দেশের কারখানাগুলো একের পর এক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরে, যেখানে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পেরে কেয়া গ্রুপের চারটি কারখানা থেকে একসঙ্গে ৬১৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড—এই চার প্রতিষ্ঠান থেকে এই গণছাঁটাই করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামের তালিকাসহ নোটিশ টাঙিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ, আর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্রমিকরা এসে সেই তালিকায় নিজেদের নাম দেখতে পান। এ সময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত নোটিশ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি জনবলের কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক খরচ কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদ বিলুপ্ত করে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুসারে আজ থেকেই এই ছাঁটাই কার্যকর হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্যাংকিং সমস্যা ও গ্যাস–সংকটের কারণে গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো দফায় দফায় লে-অফের (সাময়িক কাজ বন্ধ) আওতায় ছিল। কয়েক দফা লে-অফের মেয়াদ বাড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে এই ৬১৩ জনকে ছাঁটাই করা হলো।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের সব পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন নিয়োগের প্রয়োজন হলে দক্ষ ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে শ্রম আইনের ২১ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া যাদের চাকরি এখনো বহাল আছে, তারা লে-অফের আওতায় থেকে আইনানুগ সুবিধা পাবেন।

হঠাৎ চাকরিহারা হয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় তাদের অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। দীর্ঘদিন কারখানায় কর্মরত থাকা কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, চাকরি হারিয়ে পরিবার চালানো এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং বিকল্প কর্মসংস্থান না পেলে অনেককে ভিন্ন পেশায় যেতে হতে পারে।

পাওনা পরিশোধ প্রসঙ্গে মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ বার পড়া হয়েছে

গাজিপুরে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৬১৩ শ্রমিক ছাঁটাই

আপডেট সময় ০৬:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের কারখানাগুলো একের পর এক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরে, যেখানে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পেরে কেয়া গ্রুপের চারটি কারখানা থেকে একসঙ্গে ৬১৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড—এই চার প্রতিষ্ঠান থেকে এই গণছাঁটাই করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামের তালিকাসহ নোটিশ টাঙিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ, আর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্রমিকরা এসে সেই তালিকায় নিজেদের নাম দেখতে পান। এ সময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত নোটিশ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি জনবলের কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক খরচ কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদ বিলুপ্ত করে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুসারে আজ থেকেই এই ছাঁটাই কার্যকর হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্যাংকিং সমস্যা ও গ্যাস–সংকটের কারণে গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো দফায় দফায় লে-অফের (সাময়িক কাজ বন্ধ) আওতায় ছিল। কয়েক দফা লে-অফের মেয়াদ বাড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে এই ৬১৩ জনকে ছাঁটাই করা হলো।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের সব পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন নিয়োগের প্রয়োজন হলে দক্ষ ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে শ্রম আইনের ২১ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া যাদের চাকরি এখনো বহাল আছে, তারা লে-অফের আওতায় থেকে আইনানুগ সুবিধা পাবেন।

হঠাৎ চাকরিহারা হয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় তাদের অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। দীর্ঘদিন কারখানায় কর্মরত থাকা কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, চাকরি হারিয়ে পরিবার চালানো এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং বিকল্প কর্মসংস্থান না পেলে অনেককে ভিন্ন পেশায় যেতে হতে পারে।

পাওনা পরিশোধ প্রসঙ্গে মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।