ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব সংবাদ :

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং সেখানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি; কিন্তু এর জন্য মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।’ একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ঋণ রাষ্ট্র কখনো শোধ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে যান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম।

জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রপতি দর্শনার্থীর টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। এরপর ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন।

দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শহিদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘরও ঘুরে দেখেন তিনি। এ ছাড়া জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।

জাদুঘরে সংরক্ষিত শহিদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার সংগ্রামের বিভিন্ন চিত্রও দেখেন তিনি।

পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। প্রামাণ্যচিত্রটি দেখার সময়ও তাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের ঋণ রাষ্ট্র কখনোই শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। শহিদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:৫২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ বার পড়া হয়েছে

জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৬:৫২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং সেখানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি; কিন্তু এর জন্য মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।’ একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ঋণ রাষ্ট্র কখনো শোধ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে যান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম।

জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রপতি দর্শনার্থীর টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। এরপর ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন।

দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শহিদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘরও ঘুরে দেখেন তিনি। এ ছাড়া জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।

জাদুঘরে সংরক্ষিত শহিদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার সংগ্রামের বিভিন্ন চিত্রও দেখেন তিনি।

পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। প্রামাণ্যচিত্রটি দেখার সময়ও তাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের ঋণ রাষ্ট্র কখনোই শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। শহিদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।