ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামনে হট্টগোল, বেরিয়ে গেলেন কূটনীতিকরা

নিজস্ব সংবাদ :

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কর্মরত কূটনীতিকগণ। গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে একটি ডকুমেন্টারি (প্রামাণ্যচিত্র) প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। উপস্থিতদের একাংশের অভিযোগ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এ সময় রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনী শেষে উপস্থিত জুলাই আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একাংশ এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা প্রামাণ্যচিত্রে বিভিন্ন অসংগতির অভিযোগ তুলে হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকগণ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা দ্রুত মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন।

জানা গেছে, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষ হওয়ার পরই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের একাংশ দাঁড়িয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

একপর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে মঞ্চে এসে উপস্থিতদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তবে তার বক্তব্যের পরও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতৃত্ব ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মঞ্চে উঠে আখতার হোসেন বলেন, প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে অনেক অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান আখতার হোসেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যান।

এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আবারও মঞ্চে আসেন। তিনি প্রামাণ্যচিত্রে থাকা অসম্পূর্ণতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে উপস্থিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চান।

মন্ত্রী জানান, প্রতিবাদকারী শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:৪০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামনে হট্টগোল, বেরিয়ে গেলেন কূটনীতিকরা

আপডেট সময় ০৬:৪০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কর্মরত কূটনীতিকগণ। গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে একটি ডকুমেন্টারি (প্রামাণ্যচিত্র) প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। উপস্থিতদের একাংশের অভিযোগ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এ সময় রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনী শেষে উপস্থিত জুলাই আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একাংশ এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা প্রামাণ্যচিত্রে বিভিন্ন অসংগতির অভিযোগ তুলে হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকগণ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা দ্রুত মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন।

জানা গেছে, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষ হওয়ার পরই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের একাংশ দাঁড়িয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

একপর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে মঞ্চে এসে উপস্থিতদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তবে তার বক্তব্যের পরও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতৃত্ব ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মঞ্চে উঠে আখতার হোসেন বলেন, প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে অনেক অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান আখতার হোসেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতির অনুমতি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যান।

এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আবারও মঞ্চে আসেন। তিনি প্রামাণ্যচিত্রে থাকা অসম্পূর্ণতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে উপস্থিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চান।

মন্ত্রী জানান, প্রতিবাদকারী শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও শহীদদের আত্মত্যাগ যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।