ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
আজ বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং বর্তমানে মার্কিন বাহিনী ওই অঞ্চলে নিছক একটি ‘রক্ষণাত্মক’ বা ডিফেন্সিভ ভূমিকায় অবস্থান করছে।
রুবিও জোর দিয়ে বলেন, এখন থেকে মার্কিন সেনারা আগ বাড়িয়ে কোনো আক্রমণ চালাবে না এবং কেবল আক্রান্ত হলেই পাল্টা গুলি ছুড়বে। বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত রাখা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রক্ষণাত্মক অবস্থানের কথা বলা হলেও তার বক্তব্যে একই সঙ্গে ছিল কড়া হুঁশিয়ারি। তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় তবে দেশটির অর্থনীতি ‘প্রজন্মব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞের’ সম্মুখীন হতে পারে।
তেহরানকে তাদের বর্তমান গতিপথ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে রুবিও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী। তবে তার দাবি অনুযায়ী, ইরান এখন পর্যন্ত আলোচনার সেই পথে হাঁটেনি। বরং ইরান ক্রমাগত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমানে হরমজ প্রণালীতে আমেরিকার এই অবস্থানের পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে তাদের সামরিক অভিযান শেষ এবং তারা এখন কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে আছে, অন্যদিকে ওই অঞ্চলে এখনো মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাহাজ আটকের ঘটনা ঘটছে।
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, নিজেদের ভূখণ্ড থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে একটি অঞ্চলে নিয়মিত সামরিক সম্পৃক্ততা বজায় রেখে এবং ইরানকে চরম ধ্বংসের হুমকি দিয়ে কীভাবে একটি দেশ ‘রক্ষণাত্মক’ অবস্থানে থাকার দাবি করতে পারে। তারা মনে করছেন, মার্কিন এই নতুন অবস্থান মূলত আক্রমণাত্মক কৌশলেরই একটি ভিন্ন রূপ।




















