হবিগঞ্জে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি তেল
হবিগঞ্জ জেলার প্রায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি তেল। ফলে বিপাকে পড়েছেন বাস-মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল এবং প্রাইভেট গাড়ির চালক ও যাত্রীরা। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, মজুদ করে খুচরা দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেলসহ যাবতীয় জ্বালানি তেল।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সরকার যানবাহনগুলোতে জ্বালানি তেল দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করে দিলেও ফিলিং স্টেশনের মালিকরা তা মানছেন না।
খুচরা দোকানে প্রতি লিটার জ্বালানি তেল নির্ধারিত দাম থেকে ৩০-৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন, জ্বালানি তেলের খুচরা দোকানে ও ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এতে করে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ভুগছে হবিগঞ্জের মানুষ।
জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার লিটার জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা জেলার মোট চাহিদার প্রায় ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
ফলে পরিবহন চালক ও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার এবং অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিমাণে জ্বালানি দেওয়ার নিয়ম করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু এ নিয়ম মানছে না জ্বালানি তেলের ফিলিং স্টেশনগুলো। নির্ধারিত সীমার অর্ধেক জ্বালানি তেল যানবাহনে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলায় বর্তমানে মোট ১৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে বাহুবল উপজেলায় ৮টি, মাধবপুর, চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জে ২টি করে, শায়েস্তাগঞ্জ ও বানিয়াচংয়ে ১টি করে এবং সদর উপজেলায় রয়েছে ৩টি ফিলিং স্টেশন। চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় এবং সংকটের কারণে জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে চালক ও কর্মচারীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
সদর উপজেলার বাসিন্দা সমীরণ চত্রবর্তী জানান, তেল বিক্রির নির্ধারিত নিয়ম মানছেন না ব্যবসায়ীরা। খুচরা দোকানে দামও রাখা হচ্ছে বেশি। এতে করে জনভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
চুনারুঘাট উপজেলার শ্রীকুটা গ্রামের মনছুর আলী জানান, এ বিষয়ে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে খুচরা দোকানে অভিযান পরিচালনা করা দরকার।
এদিকে খুচরা দোকানিদের দাবি, তারা বেশি দামে তেল ক্রয় করছেন, তাই বেশি দামে বিক্রিও করতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, তেল বিক্রির সীমা সরকার নির্ধারণ করে দিলেও সরবরাহ কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত তেল দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলার ১৯টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল মিলিয়ে মোট চাহিদা প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার লিটার। তবে গত কয়েক দিন ধরে ডিপো থেকে চাহিদার মাত্র ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।




















