ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প-স্টারমার দ্বন্দ্ব তীব্র, ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে অবস্থান বদল
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এর মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে বেড়েছে। হামলা ইস্যুতে স্টারমারের বক্তব্যে অসন্তোষ জানিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমন কারও সঙ্গে আলোচনা করছি না, যিনি উইনস্টন চার্চিল। চার্চিল ছিলেন দৃঢ়চেতা নেতা। কিন্তু কিয়ার স্টারমার তেমন নন যে তাঁর সঙ্গে বিশেষভাবে সমঝোতায় যেতে হবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বগুণ নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইরানে মার্কিন হামলার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ইরাক যুদ্ধের মতো আরেকটি কৌশলগত ভুল করতে চায় না। আন্তর্জাতিক আইন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও ট্রাম্পের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা হয়েছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা তার আচরণকে ‘উগ্র’, ‘একতরফা’ ও গ্যংস্টার বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
এদিকে, ইরান ইস্যুতে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য। তবে পরে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিরক্ষামূলক হামলার ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী ড্যারেন জোন্স বলেন, কেবল তখনই ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়োজিত করা হবে, যখন এর সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি থাকবে এবং দেশের জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট থাকবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক সহযোগিতা আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে এবং দুই দেশের বাহিনী বর্তমানে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা—এই দুই কৌশলের সমন্বয় করার চেষ্টা করছে যুক্তরাজ্য।





















