ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
এক্সে জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ তদন্তে ডিবি কিছু কিছু প্রার্থী ভোট চান না, শুধু আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন: মির্জা আব্বাস জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এলো ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ আরো ১৯ জনকে বহিষ্কার কোনো মার্কাকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যায় না: মির্জা ফখরুল যুবকদের অংশগ্রহণে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্স দ্বিগুণ করা হবে: আসিফ মাহমুদ ‘আমেরিকা-ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠকে জামায়াত ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায়’ ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত: ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকির নিন্দা জানাল ইসলামী ছাত্রশিবির

নিজস্ব সংবাদ :

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর অনুসারী এক বিএনপি নেতার প্রকাশ্যে নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকি দিয়েছেন অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় দেশব্যাপী নারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এরও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃধবার (২৮ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান শরীফের অনুসারী মহসিন আলী নামের এক বিএনপি নেতা দলীয় নির্বাচনী সভায় প্রকাশ্যে নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকি দেন, যা অসভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।

তার এই কাপুরুষোচিত ঘোষণা সামাজিক মূল্যবোধ, মানবিকতা এবং পুরো নারীসমাজকে চরমভাবে অপমানিত করেছে।
ছাত্রশিবিরের এ দুই নেতা বলেন, বিএনপি আজ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি নারী নিপীড়কের দলে পরিণত হয়েছে। তাদের ধারাবাহিক অপকর্মে জনজীবন অতিষ্ঠ। গত দেড় বছরে তাদের হাতে ৭০টিরও বেশি নারী ধর্ষণের ঘটনা, অব্যাহত সাইবার বুলিং ও স্লাটশেমিং, এবং সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণাকালে অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেটে লাথি মারা, মা-বোনদের হিজাব খুলে নেওয়া, এমনকি মসজিদে প্রবেশ করে নারীদের মারধরের মতো পৈশাচিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে—তাদের হাতে নারীসমাজ আজ কোথাও নিরাপদ নয়।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ধারাবাহিকভাবে মা-বোনদের ওপর এমন জঘন্য নির্যাতন চললেও বিএনপি বা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিবাদ কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নজির দেখা যায়নি। এই রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে যে, নারী হেনস্তা বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তেরই অংশ। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মা-বোনদের যারা সম্মান দিতে জানে না, তাদের কাছে দেশ ও জাতি কখনোই নিরাপদ নয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, যেকোনো দলের হয়ে ভোট চাওয়া বা প্রচার-প্রচারণা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

প্রচার-প্রচারণায় কোনো অনিয়ম হলে তার জন্য দেশের প্রচলিত আইন রয়েছে। কিন্তু মিথ্যা ও বানোয়াট অজুহাতে একটি রাজনৈতিক দল বারবার আইন হাতে তুলে নিলেও প্রশাসন আজ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমরা আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর যদি এভাবে বারবার পৈশাচিক আঘাত আসতে থাকে, তবে ছাত্র-জনতা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন এবং বিএনপি নেতৃত্বকেই সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ চুয়াডাঙ্গার মহসিন আলীসহ সব নারী নিপীড়ককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির প্রতিও আহ্বান জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
২৩ বার পড়া হয়েছে

নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকির নিন্দা জানাল ইসলামী ছাত্রশিবির

আপডেট সময় ০৬:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর অনুসারী এক বিএনপি নেতার প্রকাশ্যে নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকি দিয়েছেন অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় দেশব্যাপী নারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এরও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃধবার (২৮ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান শরীফের অনুসারী মহসিন আলী নামের এক বিএনপি নেতা দলীয় নির্বাচনী সভায় প্রকাশ্যে নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকি দেন, যা অসভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।

তার এই কাপুরুষোচিত ঘোষণা সামাজিক মূল্যবোধ, মানবিকতা এবং পুরো নারীসমাজকে চরমভাবে অপমানিত করেছে।
ছাত্রশিবিরের এ দুই নেতা বলেন, বিএনপি আজ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির পাশাপাশি নারী নিপীড়কের দলে পরিণত হয়েছে। তাদের ধারাবাহিক অপকর্মে জনজীবন অতিষ্ঠ। গত দেড় বছরে তাদের হাতে ৭০টিরও বেশি নারী ধর্ষণের ঘটনা, অব্যাহত সাইবার বুলিং ও স্লাটশেমিং, এবং সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণাকালে অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেটে লাথি মারা, মা-বোনদের হিজাব খুলে নেওয়া, এমনকি মসজিদে প্রবেশ করে নারীদের মারধরের মতো পৈশাচিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে—তাদের হাতে নারীসমাজ আজ কোথাও নিরাপদ নয়।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ধারাবাহিকভাবে মা-বোনদের ওপর এমন জঘন্য নির্যাতন চললেও বিএনপি বা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিবাদ কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নজির দেখা যায়নি। এই রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে যে, নারী হেনস্তা বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তেরই অংশ। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মা-বোনদের যারা সম্মান দিতে জানে না, তাদের কাছে দেশ ও জাতি কখনোই নিরাপদ নয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, যেকোনো দলের হয়ে ভোট চাওয়া বা প্রচার-প্রচারণা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

প্রচার-প্রচারণায় কোনো অনিয়ম হলে তার জন্য দেশের প্রচলিত আইন রয়েছে। কিন্তু মিথ্যা ও বানোয়াট অজুহাতে একটি রাজনৈতিক দল বারবার আইন হাতে তুলে নিলেও প্রশাসন আজ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমরা আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর যদি এভাবে বারবার পৈশাচিক আঘাত আসতে থাকে, তবে ছাত্র-জনতা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন এবং বিএনপি নেতৃত্বকেই সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ চুয়াডাঙ্গার মহসিন আলীসহ সব নারী নিপীড়ককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির প্রতিও আহ্বান জানান।