জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ঢাবিতে ছাত্রদলের আলোকচিত্র প্রদর্শনী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
অনুষ্ঠানে হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘৭ নভেম্বর আসলে একটা চেতনার নাম, একটা প্রেরণার নাম। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এত সুন্দর অ্যাডজাস্ট করে! কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সেন্টিমেন্ট—অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদের সেন্টিমেন্ট, সত্য-সঠিক-ন্যায়ের পক্ষে লড়াইয়ের সেন্টিমেন্ট এবং ৭ নভেম্বরের সেন্টিমেন্ট একই।’
মুক্তিযোদ্ধারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে জুলুম-অত্যাচার থাকবে না, দারিদ্র্য ও মানুষের কষ্ট কমবে এবং সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।
’
স্বাধীনতার পরের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের পরেই সবকিছু পাল্টে গেল। নেতা আসলেন বিদেশ থেকে। নেতা এসে ঘটালেন ভিন্ন ঘটনা, শহীদের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল। অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন—দেশব্যাপী কি অবস্থা! মানুষ ক্ষুধায় লঙ্গরখানায় বসে খাবার খাচ্ছে, ডাস্টবিনের পাশে মানুষ এবং কুকুরের সহাবস্থান—এগুলো বাস্তব ঘটনা, এই বাংলাদেশে ঘটেছে।
বাসন্তীরা জাল দিয়ে লজ্জা নিবারণ করছে, আর নেতা তার সন্তানের বিয়েতে সোনার পাত্রে সোনার চামচ দিয়ে পুত্রবধূর মুখে পায়েস তুলে দিচ্ছেন।’
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে অন্য একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল করে রাখার চেষ্টা হয়েছিল মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কোনো দেশের কাছে বাংলাদেশকে পরাধীন হতে দেওয়া হবে না, এমন অবস্থান থেকেই ৭ নভেম্বরের ঘটনা ঘটেছিল।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘১৭টি বছর বাংলাদেশকে নিজ শক্তির বাইরে নিয়ে গিয়ে আরেকটি দেশের ওপর পরিকল্পিতভাবে নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছিল। বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো শক্তি ছিল না। একবার দেখলাম তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে বলেছি শেখ হাসিনাকে যেন আরো কিছুদিন ক্ষমতায় রাখা যায়।
কত নির্লজ্জ হলে একটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ধরনের কথা বলতে পারেন!
দেশের ভবিষ্যৎ অন্য কোনো দেশে বসে নয়, বরং এ দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘৭ নভেম্বর না ঘটলে বাংলাদেশ নামক দেশটির স্বাধীনতা থাকত না। সার্বভৌমত্ব থাকত না এবং একই সঙ্গে এটি অন্যের প্রদেশের অন্য দেশের দেশ হিসেবে হয়তো আমাদের পরিচিত হতে হতো। ওই সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দেশি-বিদেশি আধিপত্যবাদ, পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ৩ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশ চরম দুর্বিষহ সময় পার করেছে।’
জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে উল্লেখ করে উপাচার্য আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টিতেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাই সদস্যরা অংশ নেন।




















