ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৯০ শিশুকে হত্যার দায়ে ধর্মীয় নেতার ২০০ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব সংবাদ :

১৯০ শিশুকে হত্যার দায়ে ধর্মীয় নেতার ২০০ বছরের কারাদণ্ড

কেনিয়ায় ১৯০ শিশুকে অনাহারে মৃত্যুর মুখে ঠেলে হত্যার দায়ে ধর্মীয় নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। আজ শুক্রবার এ রায় দেওয়া হয়। বিচারপতি ডায়ানা কাভেদজা জানান, অনাহারে হত্যার দায়ে ১০০ বছর এবং সরাসরি হত্যার দায়ে আরও ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ম্যাকেঞ্জিকে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ, পূর্ব কেনিয়ার ভারত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে একটি বনে খ্রিষ্টান গির্জা পরিচালনা করতেন ম্যাকেঞ্জি। তিনি অনুসারীদের বলেছিলেন, পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগে স্বর্গে যেতে হলে নিজেদের এবং সন্তানদের অনাহারে মৃত্যুবরণ করতে হবে।

তার সহযোগীরা অনুসারীদের নির্দেশ মানতে বাধ্য করতে হুমকি ও মারধর করতেন। পরে অপুষ্টিতে কঙ্কালসার হয়ে যাওয়া মানুষের মরদেহ অগভীর কবর এবং শৌচাগারে পাওয়া যায়। কয়েকজনকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রায় ঘোষণার সময় ধূসর পোলো শার্ট ও কালো ট্রাউজার পরা ম্যাকেঞ্জি আদালতের বাইরে শুনানির জন্য তৈরি তাঁবুতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক সাজা পড়ে শোনানোর সময় তাকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি।

ম্যাকেঞ্জি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, তিনি কাউকে অনাহারে থাকতে বাধ্য করেননি। তবে আদালত তার এ যুক্তি গ্রহণ করেননি।

এ ঘটনায় তার ২৮ সহযোগীকেও ১০ থেকে ১৬০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত মাসে বিচার শেষে তাঁদের সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ম্যাকেঞ্জি ও দণ্ডিত অন্যদের অধিকাংশের আইনজীবী লরেন্স ওবোনিও জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

বিচারপতি কাভেদজা বলেন, গণমাধ্যমে আকর্ষণীয় উপস্থিতির মাধ্যমে ম্যাকেঞ্জি অনুসারীদের আস্থা অর্জন করেছিলেন। পরে তিনি অসহায় ও দুর্বল মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করেন। যারা উপবাস ভাঙার চেষ্টা করতেন, তাদের মারধর করে বেঁধে রাখা হতো।

বিচারক বলেন, ‘শিশুরা দিনের পর দিন ক্ষুধার্ত থাকার পর তাদের ভাইবোনদের মারা যেতে দেখেছে। যারা খাবার বা পানি চুরি করত, তাদের মারধর করা হতো, হাত বেঁধে ঘরে আটকে রাখা হতো। এসব ঘরকে উপবাসের কক্ষে পরিণত করা হয়েছিল, যেখানে তাদের মৃত্যুর জন্য ফেলে রাখা হতো।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১০:১৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
১১ বার পড়া হয়েছে

১৯০ শিশুকে হত্যার দায়ে ধর্মীয় নেতার ২০০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১০:১৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

কেনিয়ায় ১৯০ শিশুকে অনাহারে মৃত্যুর মুখে ঠেলে হত্যার দায়ে ধর্মীয় নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। আজ শুক্রবার এ রায় দেওয়া হয়। বিচারপতি ডায়ানা কাভেদজা জানান, অনাহারে হত্যার দায়ে ১০০ বছর এবং সরাসরি হত্যার দায়ে আরও ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ম্যাকেঞ্জিকে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ, পূর্ব কেনিয়ার ভারত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে একটি বনে খ্রিষ্টান গির্জা পরিচালনা করতেন ম্যাকেঞ্জি। তিনি অনুসারীদের বলেছিলেন, পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগে স্বর্গে যেতে হলে নিজেদের এবং সন্তানদের অনাহারে মৃত্যুবরণ করতে হবে।

তার সহযোগীরা অনুসারীদের নির্দেশ মানতে বাধ্য করতে হুমকি ও মারধর করতেন। পরে অপুষ্টিতে কঙ্কালসার হয়ে যাওয়া মানুষের মরদেহ অগভীর কবর এবং শৌচাগারে পাওয়া যায়। কয়েকজনকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রায় ঘোষণার সময় ধূসর পোলো শার্ট ও কালো ট্রাউজার পরা ম্যাকেঞ্জি আদালতের বাইরে শুনানির জন্য তৈরি তাঁবুতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক সাজা পড়ে শোনানোর সময় তাকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি।

ম্যাকেঞ্জি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, তিনি কাউকে অনাহারে থাকতে বাধ্য করেননি। তবে আদালত তার এ যুক্তি গ্রহণ করেননি।

এ ঘটনায় তার ২৮ সহযোগীকেও ১০ থেকে ১৬০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত মাসে বিচার শেষে তাঁদের সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ম্যাকেঞ্জি ও দণ্ডিত অন্যদের অধিকাংশের আইনজীবী লরেন্স ওবোনিও জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

বিচারপতি কাভেদজা বলেন, গণমাধ্যমে আকর্ষণীয় উপস্থিতির মাধ্যমে ম্যাকেঞ্জি অনুসারীদের আস্থা অর্জন করেছিলেন। পরে তিনি অসহায় ও দুর্বল মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করেন। যারা উপবাস ভাঙার চেষ্টা করতেন, তাদের মারধর করে বেঁধে রাখা হতো।

বিচারক বলেন, ‘শিশুরা দিনের পর দিন ক্ষুধার্ত থাকার পর তাদের ভাইবোনদের মারা যেতে দেখেছে। যারা খাবার বা পানি চুরি করত, তাদের মারধর করা হতো, হাত বেঁধে ঘরে আটকে রাখা হতো। এসব ঘরকে উপবাসের কক্ষে পরিণত করা হয়েছিল, যেখানে তাদের মৃত্যুর জন্য ফেলে রাখা হতো।’