হবিগঞ্জে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪২৯২ লিটার তেল চুরি
হবিগঞ্জের মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের কনডেনসেটবাহী পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪ হাজার ২৯২ লিটার তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে জিটিসিএলের উপব্যবস্থাপক মো. জায়েদ হোসেন বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় মামলাটি করেন।
পুলিশ ও জিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ নভেম্বর রাত ১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উত্তর নোয়াপাড়া এলাকার রতনপুর ডাক্তার বাড়ির গেটসংলগ্ন স্থানে পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনা উদঘাটন করেন জিটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় পাইপলাইনের পাশে পাঁচ-ছয়জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পান তারা।
নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে গেলে তারা সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অনুসন্ধানে পাইপলাইনে ছিদ্র করে অতিরিক্ত হোসপাইপের মাধ্যমে কনডেনসেট বের করার বিষয়টি ধরা পড়ে।
জিটিসিএলের নিরাপত্তাকর্মীদের সুপারভাইজার দুলাল মিয়া জানান, ঘটনার সময় সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনকে (৫০) ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। নিরাপত্তাকর্মীরা পাইপলাইনের কাছে যেতে চাইলে তিনি বাধা দেন। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে।
জানা যায়, এর মধ্যে রয়েছে ছয় ইঞ্চি ব্যাসের একটি ক্ল্যাম্প, এক ইঞ্চি জিআই পাইপ ও দুটি বলভালভ। এ ছাড়া ইসলাম উদ্দিনের বাড়ির পুকুর ও আশপাশ থেকে তেল মজুদের কাজে ব্যবহৃত দুটি বড় পানির ট্যাংক উদ্ধার করা হয়। তার বাড়িতে মাটির নিচে তেল সংরক্ষণের জন্য তৈরি দুটি গোপন গর্ত বা ট্যাংকের সন্ধানও পাওয়া যায়।
জিটিসিএলের আশুগঞ্জ অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্মে জড়িত বলে তাদের ধারণা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জিটিসিএলের উপব্যবস্থাপক মো. জায়েদ হোসেন জানান, গত দুই দিনে পাইপলাইন থেকে ৪ হাজার ২৯২ লিটার কনডেনসেট চুরি হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯২০ টাকা। পাইপলাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জিটিসিএলের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম হাসান বলেন, পাইপলাইনে ছিদ্র করে বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে কনডেনসেট বের করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হতো। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, জিটিসিএল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এসআই সামসু উদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত জব্দ করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















