ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
ভুটানের বিপক্ষে জয় দিয়েই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু বাংলাদেশের ফ্রান্সজুড়ে ফের বিক্ষোভ, অস্থিরতা সামাল দিতে মরিয়া ম্যাক্রোঁ সিলেট ও হবিগঞ্জের তিন ইউএনওকে রদবদল হবিগঞ্জে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে ৪২৯২ লিটার তেল চুরি ইরান যুদ্ধ ছাড়াও ট্রাম্পের দলের ভরাডুবির পেছনে ৪ কারণ আদালত প্রাঙ্গণে পরীমনিকে ঘিরে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছে: রুহুল কবীর রিজভী ৭ নভেম্বর পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা : বিজিএমইএ

কেন হঠাৎ আবু বকরে মজেছেন বাংলাদেশি দর্শকরা?

নিজস্ব সংবাদ :

কেন হঠাৎ আবু বকরে মজেছেন বাংলাদেশি দর্শকরা?

পর্দায় তার শান্ত স্বভাব, দায়িত্বশীলতা আর ভালোবাসার প্রকাশে মুগ্ধ দর্শক। শুধু পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের দর্শকদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘দার-ই-নিজাত’-এর আবু বকর চরিত্রটি।

বিশেষ করে নারী দর্শকদের অনেকেই চরিত্রটিকে দেখছেন আদর্শ জীবনসঙ্গী হিসেবে। কেউ কেউ তো বাস্তব জীবনেও আবু বকরের মতো কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। কিন্তু কী এমন আছে এই চরিত্রে, যা দর্শকদের এতটা মুগ্ধ করেছে?

ধারাবাহিকটিতে আবু বকর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাকিস্তানি অভিনেতা শেহরিয়ার মুনাওয়ার। সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের উপস্থাপক হারুন রশিদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, দুর্বলতা ও প্রেমের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

শেহরিয়ারের মতে, আবু বকরের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, সে সবাইকে খুশি রাখতে চায়। কাউকে ‘না’ বলতেও তার ভীষণ অসুবিধা হয়। এই জায়গায় নিজের সঙ্গে চরিত্রটির মিল খুঁজে পান অভিনেতা। তার কথায়, তিনিও অনেক সময় অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে পারেন না। এ ছাড়া আবু বকরের মধ্যে রয়েছে ‘সেভিয়ার কমপ্লেক্স’—অর্থাৎ অন্যের সমস্যা সমাধান করা কিংবা সবাইকে বিপদ থেকে রক্ষা করার অতিরিক্ত প্রবণতা।

চরিত্রটির এমন মানসিকতা তৈরির পেছনে মায়ের প্রভাবও রয়েছে বলে মনে করেন শেহরিয়ার। ছোটবেলা থেকেই আবু বকরের মা তাকে নির্দিষ্ট কিছু মূল্যবোধের মধ্যে বড় করেছেন। সব সময় শিখিয়েছেন কোনটি সঠিক, আর কোনটি ভুল। ফলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঠিক কাজটি করার একটা চাপ তার মধ্যে কাজ করে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেহরিয়ার বলেন, ‘একবার ভাবুন, এই মানুষকে কতটা চাপ নিয়ে বাঁচতে হয়।

সাক্ষাৎকারে আবু বকর ও জারিয়াবের প্রেমের গল্প নিয়েও কথা বলেছেন অভিনেতা। তার ব্যাখ্যা, জারিয়াবের প্রতি আবু বকরের ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। মায়ের সঙ্গে জারিয়াবের বাড়িতে যাতায়াতের সময় থেকেই মেয়েটির প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার। তবে সেই অনুভূতির কথা কখনো প্রকাশ করেনি আবু বকর। বরং আড়াল থেকেই জারিয়াবকে দেখত।

দুজনের ব্যক্তিত্বেও রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। বিপরীত স্বভাবের এই দুই মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আবু বকরের মনেও কাজ করেছিল দ্বিধা। নিজের মন যা চাইছে, বাস্তবতা হয়তো সেই পথে এগোনোর সুযোগ দেবে না এমন ভাবনাও তাকে তাড়িয়ে বেড়াত।

জারিয়াবের প্রতি আবু বকরের ভালো লাগার বিষয়টি দর্শকদের কাছে স্পষ্ট করতে বিভিন্ন দৃশ্যে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রেখেছিলেন শেহরিয়ার। এমনই একটি দৃশ্যের কথা তুলে ধরে অভিনেতা জানান, একবার দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে আবু বকর জারিয়াবকে বলেছিল, ‘তুমি পাস্তা পছন্দ করো, তা–ই না?’ জারিয়াব তখন অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিল, সে কীভাবে জানল। উত্তরে আবু বকর বলেছিল, ‘কিশওয়ার খালা একবার বলেছিলেন।’

শেহরিয়ারের মতে, কাউকে বিশেষভাবে ভালো না লাগলে তার পছন্দের খাবারের মতো ছোটখাটো বিষয় এতটা মনে রাখার কথা নয়। দর্শকদের কাছে আবু বকরের মনের কথা পৌঁছে দিতে এমন আরও অনেক ইঙ্গিত রেখেছিলেন তিনি। অভিনেতার ভাষায়, ‘আমি এমন অনেক ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিয়েছি।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ১১:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
১১ বার পড়া হয়েছে

কেন হঠাৎ আবু বকরে মজেছেন বাংলাদেশি দর্শকরা?

আপডেট সময় ১১:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

পর্দায় তার শান্ত স্বভাব, দায়িত্বশীলতা আর ভালোবাসার প্রকাশে মুগ্ধ দর্শক। শুধু পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের দর্শকদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘দার-ই-নিজাত’-এর আবু বকর চরিত্রটি।

বিশেষ করে নারী দর্শকদের অনেকেই চরিত্রটিকে দেখছেন আদর্শ জীবনসঙ্গী হিসেবে। কেউ কেউ তো বাস্তব জীবনেও আবু বকরের মতো কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। কিন্তু কী এমন আছে এই চরিত্রে, যা দর্শকদের এতটা মুগ্ধ করেছে?

ধারাবাহিকটিতে আবু বকর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাকিস্তানি অভিনেতা শেহরিয়ার মুনাওয়ার। সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কের উপস্থাপক হারুন রশিদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, দুর্বলতা ও প্রেমের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

শেহরিয়ারের মতে, আবু বকরের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, সে সবাইকে খুশি রাখতে চায়। কাউকে ‘না’ বলতেও তার ভীষণ অসুবিধা হয়। এই জায়গায় নিজের সঙ্গে চরিত্রটির মিল খুঁজে পান অভিনেতা। তার কথায়, তিনিও অনেক সময় অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে পারেন না। এ ছাড়া আবু বকরের মধ্যে রয়েছে ‘সেভিয়ার কমপ্লেক্স’—অর্থাৎ অন্যের সমস্যা সমাধান করা কিংবা সবাইকে বিপদ থেকে রক্ষা করার অতিরিক্ত প্রবণতা।

চরিত্রটির এমন মানসিকতা তৈরির পেছনে মায়ের প্রভাবও রয়েছে বলে মনে করেন শেহরিয়ার। ছোটবেলা থেকেই আবু বকরের মা তাকে নির্দিষ্ট কিছু মূল্যবোধের মধ্যে বড় করেছেন। সব সময় শিখিয়েছেন কোনটি সঠিক, আর কোনটি ভুল। ফলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঠিক কাজটি করার একটা চাপ তার মধ্যে কাজ করে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেহরিয়ার বলেন, ‘একবার ভাবুন, এই মানুষকে কতটা চাপ নিয়ে বাঁচতে হয়।

সাক্ষাৎকারে আবু বকর ও জারিয়াবের প্রেমের গল্প নিয়েও কথা বলেছেন অভিনেতা। তার ব্যাখ্যা, জারিয়াবের প্রতি আবু বকরের ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। মায়ের সঙ্গে জারিয়াবের বাড়িতে যাতায়াতের সময় থেকেই মেয়েটির প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার। তবে সেই অনুভূতির কথা কখনো প্রকাশ করেনি আবু বকর। বরং আড়াল থেকেই জারিয়াবকে দেখত।

দুজনের ব্যক্তিত্বেও রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। বিপরীত স্বভাবের এই দুই মানুষের মধ্যে সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আবু বকরের মনেও কাজ করেছিল দ্বিধা। নিজের মন যা চাইছে, বাস্তবতা হয়তো সেই পথে এগোনোর সুযোগ দেবে না এমন ভাবনাও তাকে তাড়িয়ে বেড়াত।

জারিয়াবের প্রতি আবু বকরের ভালো লাগার বিষয়টি দর্শকদের কাছে স্পষ্ট করতে বিভিন্ন দৃশ্যে সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রেখেছিলেন শেহরিয়ার। এমনই একটি দৃশ্যের কথা তুলে ধরে অভিনেতা জানান, একবার দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে আবু বকর জারিয়াবকে বলেছিল, ‘তুমি পাস্তা পছন্দ করো, তা–ই না?’ জারিয়াব তখন অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিল, সে কীভাবে জানল। উত্তরে আবু বকর বলেছিল, ‘কিশওয়ার খালা একবার বলেছিলেন।’

শেহরিয়ারের মতে, কাউকে বিশেষভাবে ভালো না লাগলে তার পছন্দের খাবারের মতো ছোটখাটো বিষয় এতটা মনে রাখার কথা নয়। দর্শকদের কাছে আবু বকরের মনের কথা পৌঁছে দিতে এমন আরও অনেক ইঙ্গিত রেখেছিলেন তিনি। অভিনেতার ভাষায়, ‘আমি এমন অনেক ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিয়েছি।’