ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :

অনিরাপদ হয়ে উঠেছে সৌদি আরব, আতঙ্কে প্রবাসীরা

নিজস্ব সংবাদ :

অনিরাপদ হয়ে উঠেছে সৌদি আরব, আতঙ্কে প্রবাসীরা

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। কিন্তু ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলায় সেই নিরাপত্তার ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে।

রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরে হামলার পর দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, সৌদি আরবে তাদের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত। শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরদিন দ্বিতীয় দফা হামলায় আরও একজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হন।

ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে সানা বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার জবাবেই এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-ইখবারিয়ায় প্রচারিত বিমানবন্দরের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সাদা পোশাক পরা যাত্রীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করছেন। বিমানবন্দরের একটি অপেক্ষাকক্ষে ধুলা ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাদের বিভিন্ন অংশ ভেঙে মেঝেতে পড়তে দেখা যায়।

সাত বছরের বেশি সময় ধরে রিয়াদে বসবাসকারী ৩৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল বলেন, ধর্মীয় সফরে গিয়ে তীর্থযাত্রীদের কখনোই প্রাণহানির আশঙ্কায় থাকতে হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, হুথিরা কোনোভাবেই এই হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারবে না। সাধারণ মানুষের ওপর হামলার কোনো অজুহাত নেই। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অতীতে যুদ্ধে যা-ই করে থাকুক, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা সমর্থনযোগ্য নয়।

বিলাল জানান, সৌদি আরবে তার ভালো বেতনের চাকরি ও স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন রয়েছে। তাই দেশ ছেড়ে যাওয়া তার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত হবে না। তবে হামলার ব্যাপকতা ও ঘন ঘন আক্রমণের ঘটনায় প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে বেসামরিক স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। আমি ও আমার পরিবার এখানে জীবন গড়ে তুলেছি। কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এবং হামলা ঘন ঘন ঘটতে থাকলে পরিবারকে দেশে পাঠানোর কথা ভাববো কি না? অবশ্যই ভাববো।

গত এক দশকে বিভিন্ন সময়ে রিয়াদে বসবাস করেছেন আরেক ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ। তার কাছেও সৌদি আরব পরিবার নিয়ে বসবাসের জন্য নিরাপদ জায়গা ছিল। তবে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্র বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা ঠেকাতে না পারায় তিনি উদ্বিগ্ন। মোহাম্মদ বলেন, আমার সন্তানরাও এসব ঘটনায় বেশ আতঙ্কিত। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে তারা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কিছু বিদেশির দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর তাদের বোঝানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তার কথায়, রিয়াদ আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৭:৫১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
৫ বার পড়া হয়েছে

অনিরাপদ হয়ে উঠেছে সৌদি আরব, আতঙ্কে প্রবাসীরা

আপডেট সময় ০৭:৫১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। কিন্তু ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলায় সেই নিরাপত্তার ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে।

রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরে হামলার পর দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, সৌদি আরবে তাদের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত। শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরদিন দ্বিতীয় দফা হামলায় আরও একজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হন।

ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে সানা বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার জবাবেই এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-ইখবারিয়ায় প্রচারিত বিমানবন্দরের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সাদা পোশাক পরা যাত্রীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করছেন। বিমানবন্দরের একটি অপেক্ষাকক্ষে ধুলা ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাদের বিভিন্ন অংশ ভেঙে মেঝেতে পড়তে দেখা যায়।

সাত বছরের বেশি সময় ধরে রিয়াদে বসবাসকারী ৩৯ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক বিলাল বলেন, ধর্মীয় সফরে গিয়ে তীর্থযাত্রীদের কখনোই প্রাণহানির আশঙ্কায় থাকতে হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, হুথিরা কোনোভাবেই এই হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারবে না। সাধারণ মানুষের ওপর হামলার কোনো অজুহাত নেই। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট অতীতে যুদ্ধে যা-ই করে থাকুক, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা সমর্থনযোগ্য নয়।

বিলাল জানান, সৌদি আরবে তার ভালো বেতনের চাকরি ও স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন রয়েছে। তাই দেশ ছেড়ে যাওয়া তার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত হবে না। তবে হামলার ব্যাপকতা ও ঘন ঘন আক্রমণের ঘটনায় প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে বেসামরিক স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। আমি ও আমার পরিবার এখানে জীবন গড়ে তুলেছি। কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এবং হামলা ঘন ঘন ঘটতে থাকলে পরিবারকে দেশে পাঠানোর কথা ভাববো কি না? অবশ্যই ভাববো।

গত এক দশকে বিভিন্ন সময়ে রিয়াদে বসবাস করেছেন আরেক ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ। তার কাছেও সৌদি আরব পরিবার নিয়ে বসবাসের জন্য নিরাপদ জায়গা ছিল। তবে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্র বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা ঠেকাতে না পারায় তিনি উদ্বিগ্ন। মোহাম্মদ বলেন, আমার সন্তানরাও এসব ঘটনায় বেশ আতঙ্কিত। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে তারা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কিছু বিদেশির দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর তাদের বোঝানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তার কথায়, রিয়াদ আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না।