ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামাজই ইরানি জাতির সংগ্রাম ও সাফল্যের প্রধান শক্তি: মোজতবা খামেনি

নিজস্ব সংবাদ :

নামাজই ইরানি জাতির সংগ্রাম ও সাফল্যের প্রধান শক্তি: মোজতবা খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও সাফল্যের অন্যতম প্রধান শক্তি ও ভিত্তি হলো নামাজ। তাঁর মতে, নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় ইবাদত নয়; বরং মানুষের আত্মিক শক্তি, মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

মাশহাদ শহরের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ৩৩তম ‘জাতীয় নামাজ সম্মেলন’-এ পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে তাঁর পাঠানো বার্তাটি উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের সামনে পড়ে শোনানো হয়।

বার্তায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নামাজকে মহান আল্লাহর দেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত এবং ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নামাজ মানুষের সঙ্গে মহান সৃষ্টিকর্তার সরাসরি যোগাযোগের একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি নিজের ভেতরের অহংকার, প্রবৃত্তি ও জাগতিক কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পায়।

তিনি আরও বলেন, নামাজ মানুষের হৃদয়ে শান্তি, আশা ও ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে। কঠিন পরিস্থিতিতে এটি মানুষকে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে এবং আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে নিজের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নামাজকে শুধু ব্যক্তিগত ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে না দেখে এর সামাজিক গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নামাজের শিক্ষা ও চেতনা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠা এবং এর মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা জাতীয় অগ্রগতি ও সংগ্রামের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পবিত্র কোরআনের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মানুষ যখন ক্ষমতা ও সামর্থ্য অর্জন করে, তখন সৎকর্মশীলদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নামাজ কায়েম করা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানি জাতির বর্তমান বাস্তবতায় নামাজের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মোজতবা খামেনি। তিনি পরিবার, শিক্ষক, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি নামাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শিশু ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সমাজের গুণীজন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নামাজের চেতনা আরও দৃঢ়ভাবে বিকশিত হতে পারে।

বার্তার শেষাংশে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি আশা প্রকাশ করেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ইরানি জনগণ নামাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক বরকত এবং কল্যাণ লাভ করতে সক্ষম হবে। তাঁর ভাষায়, নামাজ ব্যক্তি ও সমাজকে আত্মশুদ্ধি, আশা এবং দৃঢ়তার পথে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৭:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ বার পড়া হয়েছে

নামাজই ইরানি জাতির সংগ্রাম ও সাফল্যের প্রধান শক্তি: মোজতবা খামেনি

আপডেট সময় ০৭:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও সাফল্যের অন্যতম প্রধান শক্তি ও ভিত্তি হলো নামাজ। তাঁর মতে, নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় ইবাদত নয়; বরং মানুষের আত্মিক শক্তি, মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

মাশহাদ শহরের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ৩৩তম ‘জাতীয় নামাজ সম্মেলন’-এ পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে তাঁর পাঠানো বার্তাটি উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের সামনে পড়ে শোনানো হয়।

বার্তায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নামাজকে মহান আল্লাহর দেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত এবং ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নামাজ মানুষের সঙ্গে মহান সৃষ্টিকর্তার সরাসরি যোগাযোগের একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি নিজের ভেতরের অহংকার, প্রবৃত্তি ও জাগতিক কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পায়।

তিনি আরও বলেন, নামাজ মানুষের হৃদয়ে শান্তি, আশা ও ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে। কঠিন পরিস্থিতিতে এটি মানুষকে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে এবং আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে নিজের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নামাজকে শুধু ব্যক্তিগত ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে না দেখে এর সামাজিক গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নামাজের শিক্ষা ও চেতনা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠা এবং এর মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা জাতীয় অগ্রগতি ও সংগ্রামের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পবিত্র কোরআনের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মানুষ যখন ক্ষমতা ও সামর্থ্য অর্জন করে, তখন সৎকর্মশীলদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নামাজ কায়েম করা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানি জাতির বর্তমান বাস্তবতায় নামাজের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মোজতবা খামেনি। তিনি পরিবার, শিক্ষক, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি নামাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শিশু ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সমাজের গুণীজন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নামাজের চেতনা আরও দৃঢ়ভাবে বিকশিত হতে পারে।

বার্তার শেষাংশে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি আশা প্রকাশ করেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ইরানি জনগণ নামাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক বরকত এবং কল্যাণ লাভ করতে সক্ষম হবে। তাঁর ভাষায়, নামাজ ব্যক্তি ও সমাজকে আত্মশুদ্ধি, আশা এবং দৃঢ়তার পথে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।