ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি-আ.লীগের গোপন বৈঠকে ডিবির হানা

নিজস্ব সংবাদ :

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে মারধরের অভিযোগের পর পুলিশ নদী থেকে মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা দেখা দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এককভাবে ধলেশ্বরী নদী থেকে মাটি কাটা সম্ভব না হওয়ায় বুধবার দুপুরে বক্তাবলী ইউনিয়নের সিপাইপাড়া এলাকায় ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদির সিবিআইয়ের বাড়িতে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ জন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছামেদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক হাসান আলী, বক্তাবলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সহসভাপতি মান্নেক খান এবং যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মেসিসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের দাবি, বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ওই বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধানেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার সম্ভাব্য বৈঠককে কেন্দ্র করেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।

তবে বৈঠক শুরুর আগেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর একটি দল। ডিবি পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে ডিবি পুলিশের সামনে পথরোধ করতে কয়েকজন নারীকে এগিয়ে দেওয়া হয়। এর সুযোগে ছামেদ আলীসহ সেখানে উপস্থিত অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ডিবি পুলিশের একাধিক সদস্যের ভাষ্য, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সবাইকে তারা আগে থেকে চিনতে না পারায় পুলিশ পৌঁছানোর পর কয়েকজন দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন। তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বৈঠক এবং মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধান বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে তার বৈঠক ছিল-এমন তথ্য সত্য নয়। কাদির সিবিআই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটিও তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির নেতাকে মারধরের বিষয়টি নিয়েও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ার পরই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কথিত বৈঠকের বিষয়টি সামনে আসে। বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং মাটি কাটার সঙ্গে ওই বৈঠকের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না-এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসব তথ্য জানা গেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৬:৫১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৪ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি-আ.লীগের গোপন বৈঠকে ডিবির হানা

আপডেট সময় ০৬:৫১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে মারধরের অভিযোগের পর পুলিশ নদী থেকে মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা দেখা দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এককভাবে ধলেশ্বরী নদী থেকে মাটি কাটা সম্ভব না হওয়ায় বুধবার দুপুরে বক্তাবলী ইউনিয়নের সিপাইপাড়া এলাকায় ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদির সিবিআইয়ের বাড়িতে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ জন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছামেদ আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক হাসান আলী, বক্তাবলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সহসভাপতি মান্নেক খান এবং যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মেসিসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের দাবি, বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ওই বৈঠকে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধানেরও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার সম্ভাব্য বৈঠককে কেন্দ্র করেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।

তবে বৈঠক শুরুর আগেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর একটি দল। ডিবি পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে ডিবি পুলিশের সামনে পথরোধ করতে কয়েকজন নারীকে এগিয়ে দেওয়া হয়। এর সুযোগে ছামেদ আলীসহ সেখানে উপস্থিত অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ডিবি পুলিশের একাধিক সদস্যের ভাষ্য, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সবাইকে তারা আগে থেকে চিনতে না পারায় পুলিশ পৌঁছানোর পর কয়েকজন দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন। তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বৈঠক এবং মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল প্রধান বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে তার বৈঠক ছিল-এমন তথ্য সত্য নয়। কাদির সিবিআই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেটিও তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির নেতাকে মারধরের বিষয়টি নিয়েও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ার পরই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কথিত বৈঠকের বিষয়টি সামনে আসে। বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং মাটি কাটার সঙ্গে ওই বৈঠকের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না-এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসব তথ্য জানা গেছে।