ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৫ গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

নিজস্ব সংবাদ :

সুনামগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৫ গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্রিকেট খেলার বল নিয়ে গত সোমবার বিকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের এক ইজিবাইক চালকের সঙ্গে ময়মনসিংহা হাটির এক যুবকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বীরনগর গ্রামের ইজিবাইক চালককে মারধর করেন ময়মনসিংহা হাটির ওই যুবক। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতে তাহিরপুর বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এরপর থেকে বীরনগর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে ময়মনসিংহা হাটির লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বীরনগরের পাশের জয়নগর, লক্ষ্মীপুর, ধুতমা গ্রামের লোকজনের মধ্যেও। পরে এই চার গ্রামের লোকজন ময়মনসিংহা হাটির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের জন্য রাত থেকেই প্রস্তুতি নেন।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে বীরনগর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সবাইকে শনির হাওরের পাড়ে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার জন্য। বুধবার সকালে পাঁচ গ্রামের লোকজন মাঠে জড়ো হলেও সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকায় সংঘর্ষ হয়নি। দুপুরে এক পক্ষ নৌকায় ঘটনাস্থলে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন পাঁচ গ্রামের লোকজন। এতে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হন।

তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। যদিও পুলিশ বলছে, সংঘর্ষে ছয় জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত থেকেই ওই গ্রামগুলোতে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এমনকি ওসব গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলাও হয়েছিল। তারপরও সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।’

তাহিরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস এম ফজলে রাব্বী রাজিব বলেন, ‘মসজিদে মাইকিং করে যারা সংঘর্ষে উসকানি দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। সংঘর্ষে ছয় জন আহত হয়েছেন। এখন পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৮:৫৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৫ গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

আপডেট সময় ০৮:৫৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্রিকেট খেলার বল নিয়ে গত সোমবার বিকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের এক ইজিবাইক চালকের সঙ্গে ময়মনসিংহা হাটির এক যুবকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বীরনগর গ্রামের ইজিবাইক চালককে মারধর করেন ময়মনসিংহা হাটির ওই যুবক। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতে তাহিরপুর বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এরপর থেকে বীরনগর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে ময়মনসিংহা হাটির লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বীরনগরের পাশের জয়নগর, লক্ষ্মীপুর, ধুতমা গ্রামের লোকজনের মধ্যেও। পরে এই চার গ্রামের লোকজন ময়মনসিংহা হাটির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের জন্য রাত থেকেই প্রস্তুতি নেন।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে বীরনগর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় সবাইকে শনির হাওরের পাড়ে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার জন্য। বুধবার সকালে পাঁচ গ্রামের লোকজন মাঠে জড়ো হলেও সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকায় সংঘর্ষ হয়নি। দুপুরে এক পক্ষ নৌকায় ঘটনাস্থলে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন পাঁচ গ্রামের লোকজন। এতে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হন।

তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। যদিও পুলিশ বলছে, সংঘর্ষে ছয় জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত থেকেই ওই গ্রামগুলোতে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এমনকি ওসব গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলাও হয়েছিল। তারপরও সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।’

তাহিরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস এম ফজলে রাব্বী রাজিব বলেন, ‘মসজিদে মাইকিং করে যারা সংঘর্ষে উসকানি দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। সংঘর্ষে ছয় জন আহত হয়েছেন। এখন পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।