সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৪, মব সহিংসতায় ৯
সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৫২৭ জনের বেশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৫টি ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের সেপ্টেম্বর মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগঠনটির সংগৃহীত তথ্য এবং ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা কিছুটা কমেছে। আগস্টে রাজনৈতিক সহিংসতার ৭০টি ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছিলেন।
সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ৩৫টি ঘটনায় অন্তত ৩৪০ জন আহত ও ১ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের সাতটি ঘটনায় ৬১ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ছয়টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জন আহত ও ১ জন নিহত হয়েছেন। জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন আহত ও ১ জন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে তিনটি সংঘর্ষের ঘটনায় ১৬ জন এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এইচআরএসএস বলেছে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ ও হামলা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সেপ্টেম্বরে অধিকাংশ রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর পৃথক হামলা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুষ্কৃতকারীদের হাতে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১২টি ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির ৫ জন, জামায়াতের ১ জন এবং একজন চরমপন্থী রয়েছেন। এ ছাড়া অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আধিপত্য বিস্তার, দখলদারত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ২৩টি ঘটনায় অন্তত ৬৩টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, সংঘর্ষ, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।




















