ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
ইরানের পাশে থাকার বার্তা চীনের: স্বার্থ রক্ষায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি মাদকের গডফাদার বিএনপির হলেও ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী সরাইলে দুই নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: সিলেটে একজন গ্রেপ্তার সিলেটে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জনের ব্যাখ্যা দিল মহানগর বিএনপি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে ভারত চক্রান্ত করছে: রিজভী সৌদির বিমানঘাঁটি ও তেল স্থাপনায় হামলা হুথিদের সৌদি আরব রিয়াদে রুমমেটের ছুরিকাঘাতে সিলেট প্রবাসীর মৃত্যু একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাসের যুদ্ধে অস্ত্র সংকটের আশঙ্কায় পেন্টাগন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল একতরফা

নিজস্ব সংবাদ :

নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও, তাদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস।

বিশ্বকাপে না খেলার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। লম্বা এই সময়ে তদন্ত কমিটি একাধিক ক্রিকেটার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেয়।

তদন্ত কমিটিকে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে ওয়ানডে অধিনায়কসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

শান্ত বলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ছিল ভালো এবং মানসিকভাবেও তারা প্রস্তুত ছিলেন। দলের প্রত্যেকেই ভালো ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সরকার বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের সব প্রস্তুতি ও স্বপ্ন ভেস্তে যায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি মূলত ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই নিয়েছিলেন।

শান্ত জানান, ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে আর কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তৎকালীন বিসিবি সভাপতিও সরকারের মতামতকে সমর্থন করে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসও জানিয়েছেন বিশ্বকাপে খেলার জন্য দলের ক্রিকেটাররা প্রস্তুত ছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের ভেন্যু নিয়ে তাদের কিছুটা অনীহা ছিল। ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ আয়োজন হলে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

লিটনের বক্তব্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা হলেও সরকারের সিদ্ধান্তটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও একতরফা। দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ঘটনায় ক্রিকেটারদের যেন কেবল দর্শকের ভূমিকায় রাখা হয়েছিল।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার, কোচদের নিয়ে আসিফ নজরুল আলোচনায় বসেছিলেন রাজধানীর একটি হোটেলে। যেই আলোচনাতে দুয়েকজন ক্রিকেটারদের কথা শোনা হয়েছিল। কিন্তু তাদের কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে আসিফ নজরুল সরাসরি নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। অনেক ক্রিকেটারই পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন, আগের থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত কেবল জানাতেই আলোচনায় ডেকেছিলেন উপদেষ্টা।

গত ২২ জুলাই ভারতীয় ক্রীড়া বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রেভস্পোর্টজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহেদী হাসান মিরাজও এই কথা বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা রাজনৈতিক বিষয় ছিল। এর বাইরে আমার বলার মতো তেমন কিছু নেই। প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন থাকে। আমাদের অনেক তরুণ খেলোয়াড়ও সেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। কী ঘটেছিল, সেটা সবাই জানে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তুহিন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
আপডেট সময় ০৯:৩১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ বার পড়া হয়েছে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল একতরফা

আপডেট সময় ০৯:৩১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও, তাদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস।

বিশ্বকাপে না খেলার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। লম্বা এই সময়ে তদন্ত কমিটি একাধিক ক্রিকেটার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেয়।

তদন্ত কমিটিকে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠকে ওয়ানডে অধিনায়কসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

শান্ত বলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ছিল ভালো এবং মানসিকভাবেও তারা প্রস্তুত ছিলেন। দলের প্রত্যেকেই ভালো ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সরকার বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের সব প্রস্তুতি ও স্বপ্ন ভেস্তে যায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি মূলত ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই নিয়েছিলেন।

শান্ত জানান, ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে আর কারা ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তৎকালীন বিসিবি সভাপতিও সরকারের মতামতকে সমর্থন করে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাসও জানিয়েছেন বিশ্বকাপে খেলার জন্য দলের ক্রিকেটাররা প্রস্তুত ছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের ভেন্যু নিয়ে তাদের কিছুটা অনীহা ছিল। ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ আয়োজন হলে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

লিটনের বক্তব্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা হলেও সরকারের সিদ্ধান্তটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও একতরফা। দুই প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ঘটনায় ক্রিকেটারদের যেন কেবল দর্শকের ভূমিকায় রাখা হয়েছিল।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার, কোচদের নিয়ে আসিফ নজরুল আলোচনায় বসেছিলেন রাজধানীর একটি হোটেলে। যেই আলোচনাতে দুয়েকজন ক্রিকেটারদের কথা শোনা হয়েছিল। কিন্তু তাদের কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে আসিফ নজরুল সরাসরি নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। অনেক ক্রিকেটারই পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন, আগের থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত কেবল জানাতেই আলোচনায় ডেকেছিলেন উপদেষ্টা।

গত ২২ জুলাই ভারতীয় ক্রীড়া বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রেভস্পোর্টজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহেদী হাসান মিরাজও এই কথা বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা রাজনৈতিক বিষয় ছিল। এর বাইরে আমার বলার মতো তেমন কিছু নেই। প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন থাকে। আমাদের অনেক তরুণ খেলোয়াড়ও সেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। কী ঘটেছিল, সেটা সবাই জানে।’