সিলেটে বেড়েছে খুনাখুনি, ২০ দিনে ১৬ হত্যাকাণ্ড
সিলেটে বেড়েছে খুনাখুনি। তুচ্ছ ঘটনায় কেড়ে নেওয়া হচ্ছে প্রাণ। ঘাতকের তালিকায় উঠে আসছে স্বজনদের নামও। গত ২০ দিনে সিলেট বিভাগে অন্তত ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
হঠাৎ খুনাখুনি বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, জড়িতরা অধরা থাকা; সর্বোপরি সামাজিক, পারিবারিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এ রকম ঘটনা দিনদিন বাড়ছে বলে মনে করছে সচেতন মহল।
১২ আগস্ট সিলেট মহানগরের রায়নগর মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় খুন হন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক এম এ সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা। রোমহর্ষক এ ঘটনার পর রায়নগর থেকে বাবুল মিয়া নামে এক শ্রমজীবীকে আটক করে পুলিশ। গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের দ্বন্দ্ব থেকে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ দাবি করলেও মানতে নারাজ নিহতদের পরিবার। খুনের ধরন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় স্থানীয় লোকজনও পুলিশের বয়ানে সন্তুষ্ট নয়। একই দিন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তানকে হত্যার ঘটনায় কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কামরুল পেরুয়া গ্রামের মধুপুরের বাসিন্দা। দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে কামরুল দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন।
১৫ আগস্ট সিলেটের গোয়াইনঘাটে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করায় অভিযুক্তের বাবার দায়ের কোপে প্রাণ হারান কলিম উল্লাহ (৫৩)। উপজেলার লাফনাউট দিঘিরপার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কলিম উল্লাহর ঘাতক ছয়ফুল্লাহ তার বড় ভাই। একই দিন মৌলভীবাজারের
বড়লেখা উপজেলার পূর্ব শংকরপুরে খুন হন ইউপি সদস্য আবদুল হক (৫০)। ওই দিন বিকালে তাহিরপুরের বালিয়াঘাটে পিটিয়ে আল আমিন (৩৮) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে খুনের ঘটনাটি ঘটে। ১৪ আগস্ট দোয়ারাবাজারের সোনাপুর গ্রামে নিজ ঘরে খুন হন মোহাম্মদ আলী (৭৫)। পুলিশের দাবি, বিদেশে থাকা ছেলে ইসমাইল মিয়া স্ত্রীর মাধ্যমে ভাড়াটে খুনি দিয়ে বাবাকে খুন করিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
১১ আগস্ট জৈন্তাপুরের নয়াগাত্তি গ্রামের গোলাম রফিক তার স্ত্রী জেসমিন বেগমকে (২৩) খুন করেন। ২৮ জুলাই দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম মুক্তারপুরে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বাতির আলী (৩০) নামে এক যুবককে প্রতিবেশীরা খুন করেন। ২৭ জুলাই রাতে কাজিরবাজার সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে ফুটবল খেলা নিয়ে স্কুলছাত্র রিফাত আহমেদ (১৫) খুন হয়। একই দিন সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ কেন্দ্র করে আবদুল্লাহ (২৫) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। ওই দিন বিশ্বনাথ উপজেলার পাঠানেরগাঁও গ্রামের মকরম আলীর (৬৮) লাশ বাড়ির অদূরে ধান খেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সিলেট সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে সিলেটে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। এ ছাড়া সামাজিক, পারিবারিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে মানুষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে তোয়াক্কা করছে না।
এজন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।’
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম (মিডিয়া) বলেন, ‘রায়নগরে ট্রিপল মার্ডারসহ মহানগরে ঘটে যাওয়া সব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’




















